ভোক্তার অভিযানে ১০ লাখ টাকা জরিমানা
- আপডেট সময় ০৯:০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 14
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। রোববার ঢাকা মহানগরসহ ৩০ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
৪ অক্টোবর অধিদপ্তরের ৪৪টি দল একযোগে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে। অভিযানে ফল, ভোজ্যতেল, ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সঠিক ওজন এবং নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।
অধিদপ্তর জানায়, নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো এবং এলপিজি সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধ করতেই এ বিশেষ তদারকি চালানো হয়েছে।
অভিযানে সাভারের আমতলা ও কুটুরিয়া বাজারের দুটি এলপিজি ডিলার প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে হাজি আব্দুর রহমান এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা এবং ইকবাল এন্টারপ্রাইজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান দুটি যথাযথভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ করেনি। পাশাপাশি প্রদর্শিত মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং বিশেষ পাইপের সাহায্যে গ্যাস স্থানান্তর করে ওজনে কারচুপির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ সময় কারচুপিতে ব্যবহৃত বিশেষ পাইপ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল ও স্টিকার জব্দ করা হয়।
তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুত এবং সরবরাহে বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং পণ্য বিক্রিতে সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হয়।
ফল ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রির নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে না মেশানো এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে অধিদপ্তর।
ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, সঠিক ওজন বুঝে নেওয়া এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এলপিজি সিলিন্ডার কেনার সময় ওজন, সিল ও দৃশ্যমান ত্রুটি যাচাইয়ের পাশাপাশি ক্রয়ের রসিদ বা ভাউচার সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য ও পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সূত্র: বাসস






















