ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

মাল্টার দাম ৫২০ টাকা কেন, জানতে চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 26

ছবি: সংগৃহীত

আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নিতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ জন্য দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল আমদানির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি মাল্টা ৫২০ টাকা দরে বিক্রির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রী।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভায় আলোচনা হয়।

মাল্টার বর্তমান দামের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিস্তারিত হিসাব জানতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী। আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত করার পরও কীভাবে একটি কেজি মাল্টার খুচরা মূল্য ৫২০ টাকায় পৌঁছাচ্ছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেন তিনি।

আরও পড়ুন  সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ মুছে দেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

অস্বাভাবিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ মিললে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাজারে পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।

সভায় ব্যবসায়ীরা মাল্টার দাম বৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ কমে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ দেশের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টা প্রয়োজন।

আমদানিকারকদের ভাষ্য, মাল্টা আমদানিতে উচ্চশুল্কের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় এবং জাহাজ ও বন্দরের বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে। আগের চালানে লোকসানের কারণেও অনেক ব্যবসায়ী আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া পচনশীল ফল হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাড়তি আর্থিক ঝুঁকি নিতে হয় তাদের।

ব্যবসায়ীদের এসব বক্তব্য শোনার পর মাল্টার ওপর আরোপিত শুল্কের বিষয়টি পর্যালোচনা করার কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নতুন উৎস থেকে ফল আনার পরিমাণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাজারে দ্রুত সরবরাহ বাড়াতে ব্যবসায়ীদের শিগগির এলসি খোলার এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমদানি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
এদিকে সামনে খেজুরের চাহিদা বাড়বে বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়ীদের আগেভাগেই আমদানির প্রস্তুতি শুরু করতে বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। খেজুরের শুল্ক নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহের মধ্যেই জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে খেজুর আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে।

বৈঠকে বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকৃত উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে কাজ করা হবে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন পদ্ধতিতে এমন ভারসাম্য থাকা দরকার, যাতে আমদানিকারকদের অযৌক্তিক মূল্যায়নের মুখে পড়তে না হয়। একই সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও রাখা উচিত নয়।

সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছতা এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, কোনো পক্ষ বাজার বা শুল্ক ব্যবস্থায় কারসাজির চেষ্টা করলে পুরো ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সভায় এনবিআরের এক প্রতিনিধি জানান, মান ও গ্রেডভেদে খেজুরের প্রকৃত ক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকলেও শুল্ক নির্ধারণের সময় অনেক ক্ষেত্রে সেই ভিন্নতা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। তাই আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং পণ্যের উৎসমূল্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

খেজুর আমদানিকারকেরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যবস্থা ও বন্দরের বিভিন্ন জটিলতার কারণে দেশে খেজুর পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ খেজুর বাজারে আনতে শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প দেশ বা উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর আশ্বাস দেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে শুল্ক-কর, শুল্কায়ন এবং আমদানিপ্রক্রিয়ার যৌক্তিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনার কথা জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাল্টার দাম ৫২০ টাকা কেন, জানতে চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নিতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ জন্য দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল আমদানির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি মাল্টা ৫২০ টাকা দরে বিক্রির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রী।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভায় আলোচনা হয়।

মাল্টার বর্তমান দামের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিস্তারিত হিসাব জানতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী। আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত করার পরও কীভাবে একটি কেজি মাল্টার খুচরা মূল্য ৫২০ টাকায় পৌঁছাচ্ছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেন তিনি।

আরও পড়ুন  দেশে সরকারি মালিকানায় আর কোনো টেক্সটাইল মিল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

অস্বাভাবিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ মিললে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাজারে পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।

সভায় ব্যবসায়ীরা মাল্টার দাম বৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ কমে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ দেশের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টা প্রয়োজন।

আমদানিকারকদের ভাষ্য, মাল্টা আমদানিতে উচ্চশুল্কের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় এবং জাহাজ ও বন্দরের বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে। আগের চালানে লোকসানের কারণেও অনেক ব্যবসায়ী আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া পচনশীল ফল হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাড়তি আর্থিক ঝুঁকি নিতে হয় তাদের।

ব্যবসায়ীদের এসব বক্তব্য শোনার পর মাল্টার ওপর আরোপিত শুল্কের বিষয়টি পর্যালোচনা করার কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নতুন উৎস থেকে ফল আনার পরিমাণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাজারে দ্রুত সরবরাহ বাড়াতে ব্যবসায়ীদের শিগগির এলসি খোলার এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমদানি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
এদিকে সামনে খেজুরের চাহিদা বাড়বে বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসায়ীদের আগেভাগেই আমদানির প্রস্তুতি শুরু করতে বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। খেজুরের শুল্ক নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহের মধ্যেই জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে খেজুর আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে।

বৈঠকে বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকৃত উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে কাজ করা হবে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন পদ্ধতিতে এমন ভারসাম্য থাকা দরকার, যাতে আমদানিকারকদের অযৌক্তিক মূল্যায়নের মুখে পড়তে না হয়। একই সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও রাখা উচিত নয়।

সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছতা এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, কোনো পক্ষ বাজার বা শুল্ক ব্যবস্থায় কারসাজির চেষ্টা করলে পুরো ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সভায় এনবিআরের এক প্রতিনিধি জানান, মান ও গ্রেডভেদে খেজুরের প্রকৃত ক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকলেও শুল্ক নির্ধারণের সময় অনেক ক্ষেত্রে সেই ভিন্নতা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। তাই আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং পণ্যের উৎসমূল্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

খেজুর আমদানিকারকেরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যবস্থা ও বন্দরের বিভিন্ন জটিলতার কারণে দেশে খেজুর পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ খেজুর বাজারে আনতে শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প দেশ বা উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর আশ্বাস দেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে শুল্ক-কর, শুল্কায়ন এবং আমদানিপ্রক্রিয়ার যৌক্তিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনার কথা জানানো হয়।