ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 41

ছবি সংগৃহীত

 

দিনব্যাপী সফরে ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি জেলায় পৌঁছান। এ সফরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সূচনা এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু বাসসকে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। ফেনীতে পৌঁছানোর পর তাঁর গাড়িবহর পরশুরামের দিকে যাত্রা করে। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

আরও পড়ুন  রাত ৭টা পর্যন্ত চলবে বিকিকিনি: নতুন সময়সীমা ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। এ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত ১৬ জুন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প উদ্বোধনের পর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন তিনি। সেখানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ফুলগাজীতে ৫১০ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো ফেনী জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ জনের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী প্রদান করা হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় ০৫:১২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

 

দিনব্যাপী সফরে ফেনী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি জেলায় পৌঁছান। এ সফরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সূচনা এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু বাসসকে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। ফেনীতে পৌঁছানোর পর তাঁর গাড়িবহর পরশুরামের দিকে যাত্রা করে। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। এ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত ১৬ জুন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প উদ্বোধনের পর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন তিনি। সেখানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ফুলগাজীতে ৫১০ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো ফেনী জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ জনের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এ ছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী প্রদান করা হবে।