চাহিদা অনুযায়ী বোয়িং কিনব গোপন চুক্তি নেই: হুমায়ুন কবির
- আপডেট সময় ০৫:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 33
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী আরও উড়োজাহাজ কেনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, বিমান কেনার ক্ষেত্রে কোনো গোপন চুক্তি নেই এবং কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্যও উড়োজাহাজ কেনা হয়নি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন রুট চালু ও বিদ্যমান রুট সম্প্রসারণের প্রয়োজন বিবেচনায় আরও উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর সঙ্গে কাউকে সন্তুষ্ট করার কোনো বিষয় নেই। ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বোয়িংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তির বিষয়ে এর আগে জানা যায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বোয়িং ১১টি অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার জন্য একটি সম্পূরক চুক্তি করেছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্য সরকারপ্রধানদের তুলনায় প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে চার দিন অবস্থান করেছেন। এ সময়ে তিনি প্রায় ৩০টি বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার বাইরে অন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দলীয় রাজনীতিকেন্দ্রিক ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও বৈশ্বিক অগ্রাধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। বিষয়গুলো না পড়ে বা না শুনে বক্তব্যটিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে লিখিত বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। নতুন সরকারের জন্য এটি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম অংশগ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্যও ছিল প্রথমবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা।
তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের তিনজন প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের একটি অনন্য ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে চার দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া, সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য রাখা, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, বিভিন্ন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় ও বৈশ্বিক অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে সোমবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। জাতিসংঘ সফরকালে আলোচিত বিভিন্ন বিষয় সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকেও আলোচনায় আসতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।























