ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ছাত্রদলের পুস্তিকা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করলেন রিজভী সাংবাদিকের লেখায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়: তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হবে দুই সপ্তাহের মধ্যে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জন্মের ১০০ বছরে উত্তম কুমার, দুই বাংলার দর্শকের ভালোবাসায় অমর মহানায়ক বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে হবে, তারিখ ঘোষণা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ তাবলিগ জামাতের মাওলানা এহসানুল হক আর নেই বৃষ্টির ফোঁটা থেকেই বিদ্যুৎ! নতুন সম্ভাবনা দেখছেন গবেষকরা

বোয়িংকে টার্গেটে চীন, তীব্র হচ্ছে ওয়াশিংটন-বেইজিং বাণিজ্য দ্বন্দ্ব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:০০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫
  • / 482

ছবি সংগৃহীত

 

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে, চীনের সরকারি নির্দেশে দেশটির বিমান সংস্থাগুলোকে বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে নতুন কোনো বিমান অর্ডার না দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো কোম্পানির কাছ থেকে বিমানের যন্ত্রাংশ বা সরঞ্জাম কেনাকাটাও বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং।

এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর পাল্টা হিসেবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই পক্ষের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন  চীনের নতুন যুদ্ধবিমান: ইন্দো-প্যাসিফিকে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক জবাব

ব্লুমবার্গের বরাতে জানা যায়, বোয়িংয়ের বিমান এখন চীনের জন্য আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ব্যয়ে পড়বে। এই অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে চীনা সরকার বিমান সংস্থাগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে। তবে এই পরিস্থিতি বোয়িংয়ের জন্য এক কঠিন সংকেত। কারণ, প্রতিষ্ঠানটি তাদের বৃহত্তম বাজারগুলোর একটি হারাতে বসেছে।

চীনের বাজার বোয়িংয়ের জন্য সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০১৮ সালে বোয়িংয়ের মোট বিক্রির প্রায় এক-চতুর্থাংশই এসেছিল চীন থেকে। এমনকি আগামী দুই দশকে বৈশ্বিক বিমান চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ চীন থেকেই আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মাত্র দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছিল, যেন তারা আরোপিত উচ্চ শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। তবে উল্টো অবস্থানে দেখা গেছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। যদিও গত সপ্তাহে ট্রাম্প কিছু প্রযুক্তিপণ্যের ওপর শুল্ক থেকে ছাড় দিয়েছেন, যা অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বস্তির বিষয়, তবুও তার শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ব বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।

বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির এই লড়াই কেবল বিমান শিল্প নয়, প্রযুক্তি ও অন্যান্য খাতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাধানের বদলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বোয়িংকে টার্গেটে চীন, তীব্র হচ্ছে ওয়াশিংটন-বেইজিং বাণিজ্য দ্বন্দ্ব

আপডেট সময় ০৮:০০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৫

 

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে, চীনের সরকারি নির্দেশে দেশটির বিমান সংস্থাগুলোকে বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে নতুন কোনো বিমান অর্ডার না দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো কোম্পানির কাছ থেকে বিমানের যন্ত্রাংশ বা সরঞ্জাম কেনাকাটাও বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বেইজিং।

এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর পাল্টা হিসেবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই পক্ষের এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন  একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

ব্লুমবার্গের বরাতে জানা যায়, বোয়িংয়ের বিমান এখন চীনের জন্য আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ব্যয়ে পড়বে। এই অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে চীনা সরকার বিমান সংস্থাগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে। তবে এই পরিস্থিতি বোয়িংয়ের জন্য এক কঠিন সংকেত। কারণ, প্রতিষ্ঠানটি তাদের বৃহত্তম বাজারগুলোর একটি হারাতে বসেছে।

চীনের বাজার বোয়িংয়ের জন্য সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ২০১৮ সালে বোয়িংয়ের মোট বিক্রির প্রায় এক-চতুর্থাংশই এসেছিল চীন থেকে। এমনকি আগামী দুই দশকে বৈশ্বিক বিমান চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ চীন থেকেই আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মাত্র দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছিল, যেন তারা আরোপিত উচ্চ শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। তবে উল্টো অবস্থানে দেখা গেছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। যদিও গত সপ্তাহে ট্রাম্প কিছু প্রযুক্তিপণ্যের ওপর শুল্ক থেকে ছাড় দিয়েছেন, যা অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বস্তির বিষয়, তবুও তার শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ব বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।

বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির এই লড়াই কেবল বিমান শিল্প নয়, প্রযুক্তি ও অন্যান্য খাতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাধানের বদলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।