জ্বালানি সংকট নিরসনে কাজ করছে সরকার, শিগগিরই স্বস্তি মিলবে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ১২:০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 13
চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, গত সপ্তাহ থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান—মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মন্দিরে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব তথা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে দলের স্থানীয় নেতারাও অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদেশ থেকে আমদানি করা গ্যাস মজুতের জন্য সমুদ্রে দুটি জাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলোর মালিকানা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের। এর একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রকৃত কারণ এখনও উদঘাটিত হয়নি। এই ঘটনার ফলে বাকি জাহাজের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাবে পাইপলাইনে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। তিনি জানান, গ্যাস আমদানির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার চেষ্টা চলছে এবং শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদী।
একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তেলের মতো গ্যাসের ক্ষেত্রেও একটি অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা যান্ত্রিক উপায়ে পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সরিয়ে নিচ্ছে। এতে নিজেরা লাভবান হলেও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই অনিয়ম রোধে শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী বিরাজমান। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্বজুড়ে মানুষ এই সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তিনি জানান, তাদের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১২ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে, যার স্বাভাবিক প্রভাব দেশেও পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে জ্বালানির মূল্য অপরিবর্তিত রেখে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে তাৎক্ষণিকভাবে দাম বাড়ানো হয়নি। তবে কিছু মানুষের অস্বাভাবিক ব্যবহারের কারণে পরবর্তীতে দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয় সরকার।
দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের পরিবর্তে আমদানি নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশের মাটিতে গ্যাসের মজুত থাকলেও তার প্রকৃত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে দুর্বল করে বিদেশনির্ভরতা তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে বর্তমান সরকার বাপেক্সকে সক্রিয় করতে উদ্যোগ নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে ১৩০টি গ্যাসকূপ অনুসন্ধানের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পর দায়িত্ব গ্রহণ সহজ ছিল না বলে মন্তব্য করে তিনি অতীতের শাসনামলে সংঘটিত নিপীড়ন ও সম্পদ পাচারের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশিত শ্বেতপত্র অনুযায়ী বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা উদ্ধারে সরকার কাজ করছে।
নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারীদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারও একই উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা-১৭ আসনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ নারীর কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধর্মনির্বিশেষে সবার প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি রেখে ধর্মগুরুদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রদান ও ঋণ মওকুফের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নই তাদের মূল দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।























