পদ্মার পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল; চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানিবন্দী শত শত পরিবার
- আপডেট সময় ০৬:১৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 26
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে টানা সাত দিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এতে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও কৃষিজমিতে পানি ঢুকে পড়েছে।
প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন অনেকে।
শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করেছে। বিদ্যালয়ের ভেতরে পানি ওঠায় শিক্ষার্থীদের পানিতে ভিজে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। পরে বিদ্যালয়ের ভেতরে পোশাক পরিবর্তন করে তারা ক্লাসে অংশ নিচ্ছে।
পানি বাড়ায় শিবগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর, দুলর্ভপুর ও পাঁকা ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। কোথাও ঘরের আঙিনা, আবার কোথাও বসতবাড়ির আশপাশে পানি জমেছে। এতে এসব এলাকার বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, শুকনো খাবার ও ওষুধ বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ পরিবারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে ত্রাণের আওতায় আনা হবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পদ্মার ভাঙনে আগে বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। এবার নদীর পানি অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। কারও থাকার সমস্যা বেশি হলে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে জেলার তিনটি নদীর কোনোটিরই বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই। তবে পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে।
এ কারণে নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়লেও আপাতত বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা না থাকায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। দ্রুত পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা।

























