ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ভৈরবে যুবলীগের নেতা ও সাবেক কাউন্সিলরকে কুপিয়ে হত্যা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আল আমিন (৪০) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে পৌর শহরের টিনপট্টি এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৩টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আল আমিন ভৈরব পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। পেশায় তিনি সারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভৈরব বাজারে ‘রিভারভিউ’ নামে তাঁর একটি আবাসিক হোটেলও রয়েছে।

আরও পড়ুন  কিশোরগঞ্জে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ভয়াবহ ডাকাতি, লুট ২০ লাখ টাকার মালামাল

পরিবারের সদস্যরা জানান, আল আমিন পৌর শহরের আড়াইবেপারী এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলায় দুই দফায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন তিনি। বর্তমানে জামিনে থাকা আল আমিন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকটা আড়ালে জীবনযাপন করছিলেন।

জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে পৈতৃক বাড়িতে থাকতেন না আল আমিন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শহরের রানীবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।

ঘটনার রাতে প্রায় সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নিজের রিভারভিউ হোটেলে অবস্থান করছিলেন আল আমিন। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। বাসার সড়কে প্রবেশের পর কিছুদূর এগোতেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে ঘিরে ধরে হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।

হামলায় আল আমিনের মাথায় একাধিক গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁর এক পায়ের রগও কেটে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, রাতে আল আমিনের বাসার দিকে যাওয়ার সড়কটি বেশ নির্জন থাকে। হামলার সময় চিৎকার শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে সেখান থেকে চলে যেতে দেখেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কের ওপর আল আমিনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মাথা ও মুখে প্রচুর রক্ত থাকায় প্রথমে তাঁকে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

আল আমিনের স্ত্রী তানিয়া খানম জানান, রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। তখন আল আমিন তাঁকে হোটেলে থাকার কথা জানিয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাসায় ফেরার কথা বলেছিলেন। একই সঙ্গে রাতের খাবার প্রস্তুত রাখতেও বলেছিলেন। তবে কে বা কারা এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই বলে জানান তিনি।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর রহমান আল আমিন হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ভৈরবে যুবলীগের নেতা ও সাবেক কাউন্সিলরকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আল আমিন (৪০) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে পৌর শহরের টিনপট্টি এলাকায় হামলার শিকার হন তিনি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৩টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আল আমিন ভৈরব পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। পেশায় তিনি সারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভৈরব বাজারে ‘রিভারভিউ’ নামে তাঁর একটি আবাসিক হোটেলও রয়েছে।

আরও পড়ুন  রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কিশোরগঞ্জের যুবক নিহত

পরিবারের সদস্যরা জানান, আল আমিন পৌর শহরের আড়াইবেপারী এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এসব মামলায় দুই দফায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন তিনি। বর্তমানে জামিনে থাকা আল আমিন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকটা আড়ালে জীবনযাপন করছিলেন।

জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে পৈতৃক বাড়িতে থাকতেন না আল আমিন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শহরের রানীবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।

ঘটনার রাতে প্রায় সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নিজের রিভারভিউ হোটেলে অবস্থান করছিলেন আল আমিন। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। বাসার সড়কে প্রবেশের পর কিছুদূর এগোতেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে ঘিরে ধরে হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।

হামলায় আল আমিনের মাথায় একাধিক গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁর এক পায়ের রগও কেটে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, রাতে আল আমিনের বাসার দিকে যাওয়ার সড়কটি বেশ নির্জন থাকে। হামলার সময় চিৎকার শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে সেখান থেকে চলে যেতে দেখেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কের ওপর আল আমিনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মাথা ও মুখে প্রচুর রক্ত থাকায় প্রথমে তাঁকে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

আল আমিনের স্ত্রী তানিয়া খানম জানান, রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। তখন আল আমিন তাঁকে হোটেলে থাকার কথা জানিয়ে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাসায় ফেরার কথা বলেছিলেন। একই সঙ্গে রাতের খাবার প্রস্তুত রাখতেও বলেছিলেন। তবে কে বা কারা এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই বলে জানান তিনি।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর রহমান আল আমিন হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।