মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছে ইরান
- আপডেট সময় ১০:৩৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 26
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে নয়, বরং একটি চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবে দেখছে তেহরান। এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মোহসেন ফারখানি। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে, যা কার্যত এক ধরনের যুদ্ধ কৌশল।
সাম্প্রতিক সময়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফারখানি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং তেহরানের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে অর্থনৈতিক চাপ, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের মাধ্যমে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। তার মতে, এসব পদক্ষেপকে ইরান কেবল কূটনৈতিক চাপ হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর সংঘাতের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করে।
ফারখানি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং অবরোধ উভয়ই দেশটির জাতীয় স্বার্থের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাই এসব পদক্ষেপের জবাব দেওয়া এবং নিজেদের অবস্থান রক্ষা করা ইরানের জন্য একটি প্রয়োজনীয় কৌশলগত পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে মার্কিন চাপ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করবে না বলেও তিনি মনে করেন। তার মতে, চীন, তুরস্ক, ইরাক, পাকিস্তান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো বিভিন্ন মাত্রায় বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করতে পারে, কিন্তু ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বাস্তবতার কারণে তারা সম্পূর্ণভাবে ইরান থেকে দূরে সরে যাবে না।
বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রসঙ্গে ফারখানি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন চাপের কারণে কিছু বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতা দেখা দিলেও প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে উভয় দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়া সহজ নয়। ইরান ও আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনগণের যোগাযোগ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান এখন পর্যন্ত সংযত অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন, বিভিন্ন প্রস্তাব ও রেজুলেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের নীতি নির্ধারণ করেছে। তবে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ এবং অন্যান্য চাপ যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের প্রভাব বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তেহরান কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব।























