দুই সন্তানকে হাওরের পানিতে ফেলে হত্যা, বাবা গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় ০১:২৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 30
দুই সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পৃথক দুটি হাওরে ফেলে দেওয়ার কথা পুলিশকে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার এক ব্যক্তি। পারিবারিক অশান্তি ও স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে সন্তানদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে দুই দিন আত্মগোপনে থাকার পর নিখোঁজের নাটক সাজানোর অভিযোগে কামরুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ ও সদর উপজেলার দুটি হাওর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর এলাকার একটি হাওর থেকে এক মেয়ে শিশুর এবং সদর উপজেলার গোবিনপুর এলাকার দেখার হাওর থেকে এক ছেলে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দিরাই উপজেলার পেরুয়া মধুপুর গ্রামের কামরুল গত ৭ আগস্ট শুক্রবার তার দুই সন্তান মুহাদ্দিস (৭) ও তুলনা আক্তারকে (৪) নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনজনই নিখোঁজ ছিলেন। ১০ আগস্ট সোমবার কামরুল বাড়িতে ফিরে এলেও সন্তানদের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে স্বজনদের জানান।
পরে ১২ আগস্ট স্থানীয় লোকজন কামরুলকে নিয়ে বসলে তিনি দুই সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে পৃথক এলাকায় পানিতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, কামরুল পেশায় একজন ক্ষুদ্র ফেরিওয়ালা। স্ত্রী, চার সন্তান এবং বিধবা ও বয়স্ক মাকে নিয়ে তার সাত সদস্যের সংসার। পারিবারিক অশান্তি ও স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সন্তানদের নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে যাওয়ার পথে শান্তিগঞ্জের ডাবর এলাকার একটি হাওরে চার বছরের তুলনা আক্তারকে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর কামরুল দুই দিন সিলেট শহরে অবস্থান করেন। পরে রোববার ছেলে মুহাদ্দিসকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন অবস্থায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে গাড়ি থেকে নেমে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিনপুর এলাকায় শিশুটিকে হাওরে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।
রাতে বাড়িতে ফিরে স্বজনদের কাছে সন্তানদের নিখোঁজ থাকার কথা জানান কামরুল। পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি সন্তানদের হাওরে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
দিরাই উপজেলার পেরুয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও পঞ্চায়েত ব্যক্তিত্ব আব্দুল জলিল বলেন, এমন ঘটনা তার ৬৫ বছরের জীবনে শোনেননি। তার ভাষ্য, সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য বাবা সর্বোচ্চ আশ্রয়ের জায়গা হলেও বাবার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সমাজের জন্য উদ্বেগের। তিনি ঘটনার আরও তদন্ত করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।
নিহত শিশুদের মা আফরোজা আক্তার বলেন, তিনি সন্তানদের মৃত্যুর বিচার চান এবং স্বামীর সর্বোচ্চ শাস্তি চান।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, শান্তিগঞ্জ থানায় শিশুদের মা আফরোজা আক্তার বাদী হয়ে স্বামী কামরুলকে আসামি করে মামলা করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে শিশু দুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, কামরুল নিজেই সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাকে ফোন করে বিষয়টি জানালে পুলিশ কামরুলকে গ্রেপ্তার করে।




















