ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

এইচএসসির নিবন্ধনে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 26

ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের লালপুরে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের এক অফিস সহকারীর আর্থিক প্রতারণার শিকার হওয়া ৮ শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছেন।

এই জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে নাটোরের বাগাতিপাড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ওই শিক্ষার্থীরা তাদের বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন বলে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা গেছে, অনলাইনে ফরম পূরণ করার সময় সার্ভার জটিলতা দেখা দিলে তারা বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের শরণাপন্ন হন। এই সময় ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে ওই কর্মচারীর কাছে জমা দেন। টাকা নিয়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত অমিত কুমার সরকার তা করেননি এবং শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র না দিয়ে নিজের মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে কলেজে গিয়েও তাকে না পেয়ে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

আরও পড়ুন  ৪০ দিনে নিবন্ধন চেয়ে ইসিতে ৬৫ দলের আবেদন

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত
অধ্যক্ষ মাহমুদুল রহমান জানান, সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে ওই ৮ শিক্ষার্থীর জন্য প্রবেশপত্রের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।

প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে শনিবারের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পেরেছেন। তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দিতে পারায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরীক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি জানান, তারা পরীক্ষায় বসার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এক পরীক্ষার্থীর বাবা ইমামুল হক জানান, একজন ব্যক্তির অসততার জন্য সন্তানদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছিল, তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে এই যাত্রায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষা পেয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এইচএসসির নিবন্ধনে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার

আপডেট সময় ১২:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

নাটোরের লালপুরে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের এক অফিস সহকারীর আর্থিক প্রতারণার শিকার হওয়া ৮ শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছেন।

এই জালিয়াতির ঘটনায় অভিযুক্ত কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে নাটোরের বাগাতিপাড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে ওই শিক্ষার্থীরা তাদের বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন বলে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা গেছে, অনলাইনে ফরম পূরণ করার সময় সার্ভার জটিলতা দেখা দিলে তারা বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের শরণাপন্ন হন। এই সময় ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে ওই কর্মচারীর কাছে জমা দেন। টাকা নিয়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত অমিত কুমার সরকার তা করেননি এবং শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র না দিয়ে নিজের মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে কলেজে গিয়েও তাকে না পেয়ে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

আরও পড়ুন  ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ, শুরু ২৬ জুন

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত
অধ্যক্ষ মাহমুদুল রহমান জানান, সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে ওই ৮ শিক্ষার্থীর জন্য প্রবেশপত্রের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।

প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে শনিবারের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পেরেছেন। তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দিতে পারায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরীক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি জানান, তারা পরীক্ষায় বসার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা দিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এক পরীক্ষার্থীর বাবা ইমামুল হক জানান, একজন ব্যক্তির অসততার জন্য সন্তানদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছিল, তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে এই যাত্রায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষা পেয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।