ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
এসএসএফকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর অস্ট্রেলিয়ায় চাকরির প্রলোভন, প্রতারণা চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার মহাখালীতে ককটেল বিস্ফোরণ, আ. লীগ-সংশ্লিষ্ট ৩ জন আটক অসহায় রোগীদের চিকিৎসায় ২০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ বিদেশে গৃহকর্মীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগ কৃষিতে অতীতের চেয়ে বৃহত্তম বাজেট দেওয়ার দাবি কৃষিমন্ত্রীর সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক চুক্তি—কী কী আছে এই ১৪ দফায়? জি-৭ সম্মেলনে মোদিকে ‘কিলার’ বললেন ট্রাম্প গোলহীন রোনালদো, ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ড্রয়ের পর যা বললেন পর্তুগাল অধিনায়ক

অসহায় রোগীদের চিকিৎসায় ২০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 22

ছবি: সংগৃহীত

ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় ২০ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। দেশের ৫৩টি জেলার ৪ হাজার ১০৭ জন উপকারভোগীর মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করা হবে বলে সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের চিকিৎসা সহায়তা শাখা থেকে জারি করা এক পত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনার মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার অপেক্ষায় থাকা হাজারো দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার।

জারি করা পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই অতিরিক্ত বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট জেলাসমূহের সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত হিসাবে ইতিমধ্যেই স্থানান্তর করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিজস্ব ৭৫ শতাংশ বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে ১৫ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত ২৫ শতাংশ বাজেটের অব্যয়িত অর্থ থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা যুক্ত করে এই মোট ২০ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই অর্থ নির্ধারিত ৫৩টি জেলার জটিল ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত প্রকৃত অসহায়দের মাঝে বণ্টন করা হবে।

আরও পড়ুন  কিডনি রোগ ও ক্যান্সার প্রতিরোধে কলা

বরাদ্দ পাওয়া জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফরিদপুর, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জ।
জেলাভিত্তিক আবেদন ও রোগীদের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনা করে এই অর্থ ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে নাটোর জেলায় সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা, দিনাজপুরে ১ কোটি টাকা, নরসিংদীতে ৮০ লাখ টাকা, রংপুরে ৭০ লাখ টাকা, পাবনায় ৬০ লাখ টাকা এবং বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে ৫০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত এই অর্থ অবশ্যই ‘ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৯ (সংশোধিত)’ কঠোরভাবে অনুসরণ করে ব্যয় করতে হবে। অর্থ ব্যবহারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম সংঘটিত হলে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাকে বহন করতে হবে বলে পত্রে সতর্ক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে যে উদ্দেশ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সব অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গুরুতর ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের চিকিৎসা ব্যয় লাঘব করাই এই বিশেষ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এই অতিরিক্ত বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও চিকিৎসাবঞ্চিত হাজারো রোগী উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং তাদের পরিবারের ওপর থেকে আর্থিক বড় বোঝা কিছুটা হলেও দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

অসহায় রোগীদের চিকিৎসায় ২০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ

আপডেট সময় ০৩:০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় ২০ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। দেশের ৫৩টি জেলার ৪ হাজার ১০৭ জন উপকারভোগীর মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করা হবে বলে সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের চিকিৎসা সহায়তা শাখা থেকে জারি করা এক পত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনার মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার অপেক্ষায় থাকা হাজারো দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার।

জারি করা পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই অতিরিক্ত বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট জেলাসমূহের সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত হিসাবে ইতিমধ্যেই স্থানান্তর করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিজস্ব ৭৫ শতাংশ বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে ১৫ কোটি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত ২৫ শতাংশ বাজেটের অব্যয়িত অর্থ থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা যুক্ত করে এই মোট ২০ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই অর্থ নির্ধারিত ৫৩টি জেলার জটিল ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত প্রকৃত অসহায়দের মাঝে বণ্টন করা হবে।

আরও পড়ুন  আজ বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস

বরাদ্দ পাওয়া জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফরিদপুর, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জ।
জেলাভিত্তিক আবেদন ও রোগীদের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনা করে এই অর্থ ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে নাটোর জেলায় সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা, দিনাজপুরে ১ কোটি টাকা, নরসিংদীতে ৮০ লাখ টাকা, রংপুরে ৭০ লাখ টাকা, পাবনায় ৬০ লাখ টাকা এবং বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে ৫০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত এই অর্থ অবশ্যই ‘ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৯ (সংশোধিত)’ কঠোরভাবে অনুসরণ করে ব্যয় করতে হবে। অর্থ ব্যবহারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম সংঘটিত হলে তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তাকে বহন করতে হবে বলে পত্রে সতর্ক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে যে উদ্দেশ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সব অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গুরুতর ও ব্যয়বহুল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের চিকিৎসা ব্যয় লাঘব করাই এই বিশেষ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এই অতিরিক্ত বরাদ্দের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক ও চিকিৎসাবঞ্চিত হাজারো রোগী উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন এবং তাদের পরিবারের ওপর থেকে আর্থিক বড় বোঝা কিছুটা হলেও দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।