ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

এসএসএফকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 17

ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে সরকারপ্রধান যেন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন, সে বিষয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সকে (এসএসএফ) বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ জনগণের সঙ্গে শালীন ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা, সমর্থন ও ভালোবাসাই একজন সরকারপ্রধানের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সরকারপ্রধান যেন জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে না যান বা বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়েন, সে বিষয়ে এসএসএফকে সজাগ থাকতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহারের শিকার না হন, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

আরও পড়ুন  জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিলে ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব : তারেক রহমান

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফের নবনির্মিত আধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন এবং বাহিনীর একটি বিশেষ মহড়া পরিদর্শন করেন।

বক্তব্যে তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন সময় এবং তার মৃত্যুর পর এসএসএফের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসএসএফ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। এছাড়া তার মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত জানাজার সার্বিক সমন্বয়েও বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাহিনীটির নাম ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পরিবর্তন করে এসএসএফ রাখা হয় এবং পরবর্তীতে এর কার্যপরিধি সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের ফলে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, যা মোকাবিলায় এসএসএফকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য সাহস, দক্ষতা, কৌশলগত সক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। এজন্য নিয়মিত ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের দক্ষতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নিজের দায়িত্ব গ্রহণের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গৃহীত পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তিনি তার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছেন। এর ফলে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা ও কার্যকর নিরাপত্তা কৌশলের ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না করে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফ যে সমন্বিত পদ্ধতিতে কাজ করছে, তা প্রশংসার দাবিদার।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ বিরতির পর এসএসএফের মূল নির্দেশিকা ‘রেড বুক’ সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালা আরও সুসংহত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রেড বুকের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও থাকতে হবে। তিনি সদস্যদের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড মেনে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিভিআইপিদের সুরক্ষায় এসএসএফ ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী ভূমিকা পালন করবে।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

এসএসএফকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৪:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে সরকারপ্রধান যেন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়েন, সে বিষয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সকে (এসএসএফ) বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ জনগণের সঙ্গে শালীন ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা, সমর্থন ও ভালোবাসাই একজন সরকারপ্রধানের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সরকারপ্রধান যেন জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে না যান বা বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়েন, সে বিষয়ে এসএসএফকে সজাগ থাকতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহারের শিকার না হন, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণই: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর  

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী এসএসএফের নবনির্মিত আধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন এবং বাহিনীর একটি বিশেষ মহড়া পরিদর্শন করেন।

বক্তব্যে তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন সময় এবং তার মৃত্যুর পর এসএসএফের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এবং জীবনের শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসএসএফ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। এছাড়া তার মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত জানাজার সার্বিক সমন্বয়েও বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাহিনীটির নাম ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পরিবর্তন করে এসএসএফ রাখা হয় এবং পরবর্তীতে এর কার্যপরিধি সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের ফলে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, যা মোকাবিলায় এসএসএফকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য সাহস, দক্ষতা, কৌশলগত সক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। এজন্য নিয়মিত ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের দক্ষতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নিজের দায়িত্ব গ্রহণের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গৃহীত পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তিনি তার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছেন। এর ফলে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা ও কার্যকর নিরাপত্তা কৌশলের ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না করে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফ যে সমন্বিত পদ্ধতিতে কাজ করছে, তা প্রশংসার দাবিদার।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দীর্ঘ বিরতির পর এসএসএফের মূল নির্দেশিকা ‘রেড বুক’ সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালা আরও সুসংহত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রেড বুকের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাও থাকতে হবে। তিনি সদস্যদের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড মেনে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিভিআইপিদের সুরক্ষায় এসএসএফ ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী ভূমিকা পালন করবে।