ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
‘যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজবে আফ্রিকায় ৮০ জনের বেশি নিহত সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ধর্মঘট প্রত্যাহার ভারতীয়দের, শনিবার থেকে হিলি বন্দরে বাণিজ্য শুরু জেন-জিদের পর এবার শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে ভারতে জেন-আলফার বিক্ষোভ এক্সপ্রেসওয়ে থেকে স্কচটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানক্ষেতে শত বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের প্রতিকৃতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির রেকর্ড স্মৃতি মন্ধানার কিংবদন্তি গাজী মাজহারুলের প্রয়াণ দিবস আজ নেপালে বন্যার ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার ২

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জনগণের নির্ভরযোগ্য আস্থা আনসার-ভিডিপি: প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 101

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি) সাহসিকতা, দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২০ মে) সকালে গাজীপুরে আয়োজিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ব্যবস্থাপনার মতো নানা পরিবেশবান্ধব ও যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করার মাধ্যমে এই বাহিনীর প্রতিটি কর্মকর্তা ও সদস্য টেকসই উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।

দেশের যেকোনো জাতীয় সংকটে ও প্রয়োজনে এই বাহিনীর সদস্যদের সময়োপযোগী এবং বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা সবসময়ই উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী যে প্রশংসনীয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, সে জন্য তিনি বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

আরও পড়ুন  ঘূর্ণিঝড় গেজানির তাণ্ডবে মাদাগাস্কারে ৫৯ জনের মৃত্যু

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে থাকার পর বাংলাদেশ অবশেষে পুনরায় গণতন্ত্রের সঠিক পথে যাত্রা শুরু করেছে। দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। একটি স্বনির্ভর, মানবিক, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক যাত্রাপথে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম।

তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক উক্তি—‘আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার’ স্মরণ করে বলেন, গণপ্রতিরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের মূল ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই বাহিনীর রয়েছে দেশের একদম প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও সেতুবন্ধন।

দেশের গ্রাম ও শহরগুলোতে একটি সুরক্ষিত সমাজ কাঠামো গঠন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সরকারের বহুমুখী সামাজিক সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে আনসার-ভিডিপি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও তথ্য দেন যে, বর্তমানে আমাদের অর্থনীতির প্রধান প্রাণকেন্দ্র তথা বিভিন্ন শিল্পকারখানা, কেপিআইভুক্ত হাসপাতাল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫২ হাজারেরও বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দিনরাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

আনসার-ভিডিপির নিবেদিতপ্রাণ ও বিশাল স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ সুরক্ষা, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ এবং কৃষি অর্থনীতির বিকাশে খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও দুর্যোগকালীন সাধারণ জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ যেকোনো পুনর্বাসন কার্যক্রমে আরও বড় অবদান রাখা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জনগণের নির্ভরযোগ্য আস্থা আনসার-ভিডিপি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:১২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি) সাহসিকতা, দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২০ মে) সকালে গাজীপুরে আয়োজিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ব্যবস্থাপনার মতো নানা পরিবেশবান্ধব ও যুগোপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করার মাধ্যমে এই বাহিনীর প্রতিটি কর্মকর্তা ও সদস্য টেকসই উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।

দেশের যেকোনো জাতীয় সংকটে ও প্রয়োজনে এই বাহিনীর সদস্যদের সময়োপযোগী এবং বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা সবসময়ই উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সারাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী যে প্রশংসনীয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, সে জন্য তিনি বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

আরও পড়ুন  টেক্সাসের আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৪৩, নিখোঁজ এখনো ২৭ শিশু

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে থাকার পর বাংলাদেশ অবশেষে পুনরায় গণতন্ত্রের সঠিক পথে যাত্রা শুরু করেছে। দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। একটি স্বনির্ভর, মানবিক, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক যাত্রাপথে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম।

তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক উক্তি—‘আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার’ স্মরণ করে বলেন, গণপ্রতিরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের মূল ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই বাহিনীর রয়েছে দেশের একদম প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও সেতুবন্ধন।

দেশের গ্রাম ও শহরগুলোতে একটি সুরক্ষিত সমাজ কাঠামো গঠন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সরকারের বহুমুখী সামাজিক সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে আনসার-ভিডিপি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও তথ্য দেন যে, বর্তমানে আমাদের অর্থনীতির প্রধান প্রাণকেন্দ্র তথা বিভিন্ন শিল্পকারখানা, কেপিআইভুক্ত হাসপাতাল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫২ হাজারেরও বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দিনরাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

আনসার-ভিডিপির নিবেদিতপ্রাণ ও বিশাল স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ সুরক্ষা, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ এবং কৃষি অর্থনীতির বিকাশে খাল খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও দুর্যোগকালীন সাধারণ জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ যেকোনো পুনর্বাসন কার্যক্রমে আরও বড় অবদান রাখা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।