ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রতিরোধ জোরদার করার আহ্বান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫
  • / 445

ছবি সংগৃহীত

 

রগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুহার বাড়লেও, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় এখনও কার্যকর কোনো অগ্রগতি নেই। স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জনগণের অসচেতনতার দায় দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। বরং এই দুরবস্থার বড় অংশজুড়েই রয়েছে তাদের নিষ্ক্রিয়তা।

জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের মতো রোগী ভর্তি হচ্ছে। অথচ হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা। রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ পরিমাপের সামর্থ্য না থাকায় রোগীদের যেতে হচ্ছে ব্যয়বহুল বেসরকারি ক্লিনিকে। অথচ বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন বরগুনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। সেই সতর্কতার যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসায় বিনিয়োগে সুইডেনকে আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

অপরিকল্পিতভাবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেওয়ার ফল আজ স্পষ্ট। পৌরসভা চলছে প্রশাসকের মাধ্যমে, যাঁরা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কাজ করছেন। ফলে রুটিন কাজ কোনোভাবে চললেও জরুরি সংকট মোকাবিলায় পুরো কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

সুপেয় পানির সংকট, বিশেষ করে মাটির হাঁড়ি ও প্লাস্টিকের পাত্রে পানি জমিয়ে রাখার বাধ্যবাধকতা, এডিস মশার প্রজননে সহায়ক হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু জনগণকে দায়ী না করে বিকল্প পানির ব্যবস্থা না করাটাকেই বড় ব্যর্থতা বলতে হবে।

এ বছরের জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার তুলনায় বরিশাল বিভাগে, বিশেষ করে বরগুনায়, এডিস মশার ঘনত্ব অনেক বেশি। অথচ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম নেই বললেই চলে। আর আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার খরচ জোগাড় করাও অনেক সময় সম্ভব হচ্ছে না—যা স্বাস্থ‌্যখাতের এক চরম দুরবস্থা নির্দেশ করে।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ সময়। কাজেই এখনই প্রয়োজন সর্বাত্মক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও চিকিৎসা প্রস্তুতি। শুধু বরগুনা নয়, কক্সবাজার, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর প্রতিও বিশেষ নজর দিতে হবে। দেরি করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রতিরোধ জোরদার করার আহ্বান

আপডেট সময় ১১:১৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫

 

রগুনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুহার বাড়লেও, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় এখনও কার্যকর কোনো অগ্রগতি নেই। স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জনগণের অসচেতনতার দায় দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। বরং এই দুরবস্থার বড় অংশজুড়েই রয়েছে তাদের নিষ্ক্রিয়তা।

জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের মতো রোগী ভর্তি হচ্ছে। অথচ হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা। রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ পরিমাপের সামর্থ্য না থাকায় রোগীদের যেতে হচ্ছে ব্যয়বহুল বেসরকারি ক্লিনিকে। অথচ বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন বরগুনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। সেই সতর্কতার যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসায় বিনিয়োগে সুইডেনকে আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

অপরিকল্পিতভাবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেওয়ার ফল আজ স্পষ্ট। পৌরসভা চলছে প্রশাসকের মাধ্যমে, যাঁরা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কাজ করছেন। ফলে রুটিন কাজ কোনোভাবে চললেও জরুরি সংকট মোকাবিলায় পুরো কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

সুপেয় পানির সংকট, বিশেষ করে মাটির হাঁড়ি ও প্লাস্টিকের পাত্রে পানি জমিয়ে রাখার বাধ্যবাধকতা, এডিস মশার প্রজননে সহায়ক হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু জনগণকে দায়ী না করে বিকল্প পানির ব্যবস্থা না করাটাকেই বড় ব্যর্থতা বলতে হবে।

এ বছরের জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার তুলনায় বরিশাল বিভাগে, বিশেষ করে বরগুনায়, এডিস মশার ঘনত্ব অনেক বেশি। অথচ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম নেই বললেই চলে। আর আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার খরচ জোগাড় করাও অনেক সময় সম্ভব হচ্ছে না—যা স্বাস্থ‌্যখাতের এক চরম দুরবস্থা নির্দেশ করে।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ সময়। কাজেই এখনই প্রয়োজন সর্বাত্মক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও চিকিৎসা প্রস্তুতি। শুধু বরগুনা নয়, কক্সবাজার, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর প্রতিও বিশেষ নজর দিতে হবে। দেরি করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।