ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
রামেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বসছে একক ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১ দফা জরুরি নির্দেশনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
  • / 567

ছবি সংগৃহীত

 

নতুন করে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বাড়ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। দেশে করোনার নতুন একটি উপধরনে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় সংক্রমণ প্রতিরোধে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আজ বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এই নির্দেশনাগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, করোনাভাইরাসের কয়েকটি নতুন সাব–ভ্যারিয়েন্ট ইতোমধ্যেই শনাক্ত হয়েছে। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতা হিসেবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন  চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

সংক্রমণ রোধে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানো ঠেকাতে দেশের সব স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও বিমানবন্দরের আইএইচআর (IHR) ডেস্কগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি এবং জোর দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর। এর পাশাপাশি দেশের জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসাধারণের করণীয়

১. জনসমাগম যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন এবং উপস্থিত হতেই হলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।

২. শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন।

৩. হাঁচি বা কাশির সময় বাহু বা টিস্যু দিয়ে নাক–মুখ ঢেকে রাখুন।

৪. ব্যবহৃত টিস্যুটি অবিলম্বে ঢাকনাযুক্ত ময়লা ফেলার ঝুড়িতে ফেলুন।

৫. ঘন ঘন সাবান ও পানি কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন (অন্তত ২০ সেকেন্ড)।

৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ ধরবেন না।

৭. আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।

সন্দেহজনক রোগীদের ক্ষেত্রে করণীয়

১. জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকুন।

২. রোগীর নাক–মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন।

৩. রোগীর সেবাদানকারীরাও সতর্কতা হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করুন।

৪. প্রয়োজন হলে কাছের হাসপাতালে অথবা আইইডিসিআর (০১৪০১–১৯৬২৯৩) অথবা স্বাস্থ্য বাতায়ন (১৬২৬৩)–এর নম্বরে যোগাযোগ করুন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আওতায় rt-PCR ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা, টিকাদান কর্মসূচি, চিকিৎসা নির্দেশিকা, ওষুধ, অক্সিজেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি (যেমন: হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, ভেন্টিলেটর), আইসিইউ ও এইচডিইউ সুবিধাসংবলিত কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল এবং সেবাদানকারীদের সুরক্ষাসামগ্রী (যেমন: KN95 মাস্ক, পিপিই, ফেস শিল্ড ইত্যাদি) প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশা করছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১ দফা জরুরি নির্দেশনা

আপডেট সময় ০৪:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

 

নতুন করে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বাড়ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। দেশে করোনার নতুন একটি উপধরনে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় সংক্রমণ প্রতিরোধে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আজ বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এই নির্দেশনাগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, করোনাভাইরাসের কয়েকটি নতুন সাব–ভ্যারিয়েন্ট ইতোমধ্যেই শনাক্ত হয়েছে। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতা হিসেবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন  ছয় মাসের মধ্যে আসছে মেয়েদের ক্যান্সার ভ্যাকসি

সংক্রমণ রোধে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানো ঠেকাতে দেশের সব স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও বিমানবন্দরের আইএইচআর (IHR) ডেস্কগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি এবং জোর দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর। এর পাশাপাশি দেশের জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসাধারণের করণীয়

১. জনসমাগম যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন এবং উপস্থিত হতেই হলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।

২. শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন।

৩. হাঁচি বা কাশির সময় বাহু বা টিস্যু দিয়ে নাক–মুখ ঢেকে রাখুন।

৪. ব্যবহৃত টিস্যুটি অবিলম্বে ঢাকনাযুক্ত ময়লা ফেলার ঝুড়িতে ফেলুন।

৫. ঘন ঘন সাবান ও পানি কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন (অন্তত ২০ সেকেন্ড)।

৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ ধরবেন না।

৭. আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।

সন্দেহজনক রোগীদের ক্ষেত্রে করণীয়

১. জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকুন।

২. রোগীর নাক–মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন।

৩. রোগীর সেবাদানকারীরাও সতর্কতা হিসেবে মাস্ক ব্যবহার করুন।

৪. প্রয়োজন হলে কাছের হাসপাতালে অথবা আইইডিসিআর (০১৪০১–১৯৬২৯৩) অথবা স্বাস্থ্য বাতায়ন (১৬২৬৩)–এর নম্বরে যোগাযোগ করুন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আওতায় rt-PCR ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা, টিকাদান কর্মসূচি, চিকিৎসা নির্দেশিকা, ওষুধ, অক্সিজেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি (যেমন: হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, ভেন্টিলেটর), আইসিইউ ও এইচডিইউ সুবিধাসংবলিত কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল এবং সেবাদানকারীদের সুরক্ষাসামগ্রী (যেমন: KN95 মাস্ক, পিপিই, ফেস শিল্ড ইত্যাদি) প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশা করছে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।