ঢাকা ০১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ, ইউনিসেফের জরুরি তহবিলের আবেদন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • / 225

ছবি সংগৃহীত

 

 

তহবিল সংকটের কারণে বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের মৌলিক শিক্ষাসেবা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ শনিবার (৩১ মে) জানায়, টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতা না পেলে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার শিশুর শিক্ষাজীবন থমকে যাবে

আরও পড়ুন  বান্দরবানে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবাসহ তিন রোহিঙ্গা আটক

ইউনিসেফ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মানবিক সহায়তা তহবিল কমে যাওয়ায় তাদের পরিচালিত শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে পড়া শিশুদের প্রায় ৮৩ শতাংশের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, তহবিল সঙ্কটের ফলে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়োজিত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকদের সহায়তা স্থগিত করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে ইউনিসেফের অংশীদারদের সঙ্গে থাকা ১,১৭৯ জন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “এই শিশুরা বিশ্বের সবচেয়ে প্রান্তিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। আমরা তাদের জরুরি শিক্ষা সেবা চালু রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, তবে দুঃখজনকভাবে নতুন তহবিল পেতে বিলম্ব হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই বিলম্বের কারণে আমাদের কিছু শিক্ষা কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। এর ফলে একটি প্রজন্ম শিক্ষার আলো থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।”

তহবিল না পেলে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত শিক্ষাকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকবে এবং তা ঈদের অতিরিক্ত ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর হবে। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি, বিজ্ঞান এবং সামাজিক শিক্ষা বন্ধ রেখে শুধুমাত্র সাক্ষরতা, বার্মিজ ভাষা, গণিত, জীবনদক্ষতা ও মানসিক-সামাজিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন বই ও শিক্ষকদের নির্দেশিকা কেনা হবে না। পুরনো বইপত্রই ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বইয়ের অবস্থা যাই হোক না কেন।

এছাড়া, বছর শেষে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এবং শ্রেণি নির্ধারণ পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকরা ছুটির সময় কোনো পারিশ্রমিক পাবেন না এবং তহবিল না আসা পর্যন্ত কেবল স্বেচ্ছাশ্রমেই শিক্ষাদান চালাতে পারবেন।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, সীমিত তহবিল সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতেই তারা কর্মী ছাঁটাইসহ কষ্টকর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবুও শিশুদের শিক্ষা সেবা চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।ঝুঁকিতে

নিউজটি শেয়ার করুন

ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ, ইউনিসেফের জরুরি তহবিলের আবেদন

আপডেট সময় ০২:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

 

 

তহবিল সংকটের কারণে বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের মৌলিক শিক্ষাসেবা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ শনিবার (৩১ মে) জানায়, টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতা না পেলে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার শিশুর শিক্ষাজীবন থমকে যাবে

আরও পড়ুন  "প্রত্যাবাসনের পথ: যুক্তরাষ্ট্র-চীনের দ্বন্দ্বে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ"

ইউনিসেফ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মানবিক সহায়তা তহবিল কমে যাওয়ায় তাদের পরিচালিত শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে পড়া শিশুদের প্রায় ৮৩ শতাংশের শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, তহবিল সঙ্কটের ফলে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়োজিত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকদের সহায়তা স্থগিত করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে ইউনিসেফের অংশীদারদের সঙ্গে থাকা ১,১৭৯ জন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “এই শিশুরা বিশ্বের সবচেয়ে প্রান্তিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। আমরা তাদের জরুরি শিক্ষা সেবা চালু রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, তবে দুঃখজনকভাবে নতুন তহবিল পেতে বিলম্ব হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই বিলম্বের কারণে আমাদের কিছু শিক্ষা কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। এর ফলে একটি প্রজন্ম শিক্ষার আলো থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।”

তহবিল না পেলে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত শিক্ষাকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকবে এবং তা ঈদের অতিরিক্ত ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর হবে। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি, বিজ্ঞান এবং সামাজিক শিক্ষা বন্ধ রেখে শুধুমাত্র সাক্ষরতা, বার্মিজ ভাষা, গণিত, জীবনদক্ষতা ও মানসিক-সামাজিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন বই ও শিক্ষকদের নির্দেশিকা কেনা হবে না। পুরনো বইপত্রই ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বইয়ের অবস্থা যাই হোক না কেন।

এছাড়া, বছর শেষে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এবং শ্রেণি নির্ধারণ পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকরা ছুটির সময় কোনো পারিশ্রমিক পাবেন না এবং তহবিল না আসা পর্যন্ত কেবল স্বেচ্ছাশ্রমেই শিক্ষাদান চালাতে পারবেন।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, সীমিত তহবিল সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতেই তারা কর্মী ছাঁটাইসহ কষ্টকর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবুও শিশুদের শিক্ষা সেবা চালু রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।ঝুঁকিতে