ঢাকা ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল: উপকূলবাসীর জন্য ঘূর্ণিঝড়ের সেই বিভীষিকাময় রাত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 113

ছবি সংগৃহীত

 

আজ ২৯ এপ্রিল উপকূলবাসীর জন্য এক ভয়াল ও বেদনাবিধুর দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনটি চিরকাল গভীর শোক ও স্মৃতির আবরণে ঢাকা। ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এদিন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় জনপদে ভয়াল ধ্বংসের ছাপ রেখে যায়।

সেদিন রাতের অন্ধকারে তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড়টি। ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার গতিবেগে বয়ে যাওয়া ঝড়ের সঙ্গে ছিল প্রায় ৬ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস, যা নিমিষেই গ্রাস করে নেয় বিস্তীর্ণ জনপদ। সরকারি হিসাবে, প্রাণ হারান প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন মানুষ। নিঃস্ব হয়ে যান হাজারো পরিবার। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চট্টগ্রামের বাঁশখালী, যেখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

আরও পড়ুন  ব্রিসবেনে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আলফ্রেড’ এর আগমন: সতর্কতায় স্তব্ধ শহর

জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায় চাষের জমি, গবাদিপশু, ঘরবাড়ি ও জীবনের সব সঞ্চয়। ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও চকরিয়া ছিল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর অন্যতম।

চট্টগ্রাম শহরের হালিশহর, আগ্রাবাদ, কাটঘর, বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। বন্দরের জাহাজগুলো ছিটকে পড়ে, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভেসে যায় উড়োজাহাজ, অনেক সামরিক সদস্য পরিবারসহ নিখোঁজ হন, কেউ হারান স্ত্রী, সন্তান বা ভাই-বোনকে।

সেদিন রাত ১০টার পর হঠাৎই সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ে লোকালয়ে। মুহূর্তেই মানুষের জীবনে নামে অন্ধকার। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেননি, কেউবা কোনো সতর্ক বার্তাও পাননি। আবহাওয়া বিভাগ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করলেও সচেতনতার অভাবে অনেকে ছিলেন ঘরে।

আজ, ৩৪ বছর পরেও উপকূলীয় মানুষ সেই রাতের ভয়াল স্মৃতি ভুলতে পারেননি। এখনো ঘূর্ণিঝড়ের খবর পেলেই আতঙ্কে কেঁপে ওঠে তাদের হৃদয়।

এই দিনটিকে স্মরণ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রিয়জন হারানোর শোক পালনে আয়োজন করেন দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনার। ভয়াবহ সেই রাত যেন আর কখনো ফিরে না আসে এটাই আজ সবার প্রার্থনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল: উপকূলবাসীর জন্য ঘূর্ণিঝড়ের সেই বিভীষিকাময় রাত

আপডেট সময় ১২:৩৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

 

আজ ২৯ এপ্রিল উপকূলবাসীর জন্য এক ভয়াল ও বেদনাবিধুর দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনটি চিরকাল গভীর শোক ও স্মৃতির আবরণে ঢাকা। ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এদিন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় জনপদে ভয়াল ধ্বংসের ছাপ রেখে যায়।

সেদিন রাতের অন্ধকারে তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড়টি। ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার গতিবেগে বয়ে যাওয়া ঝড়ের সঙ্গে ছিল প্রায় ৬ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস, যা নিমিষেই গ্রাস করে নেয় বিস্তীর্ণ জনপদ। সরকারি হিসাবে, প্রাণ হারান প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮২ জন মানুষ। নিঃস্ব হয়ে যান হাজারো পরিবার। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চট্টগ্রামের বাঁশখালী, যেখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

আরও পড়ুন  বরিশালের উপকূলজুড়ে অচল স্লুইসগেট, হুমকিতে কৃষি ও জনপদ

জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায় চাষের জমি, গবাদিপশু, ঘরবাড়ি ও জীবনের সব সঞ্চয়। ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও চকরিয়া ছিল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর অন্যতম।

চট্টগ্রাম শহরের হালিশহর, আগ্রাবাদ, কাটঘর, বন্দর ও পতেঙ্গা এলাকা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। বন্দরের জাহাজগুলো ছিটকে পড়ে, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভেসে যায় উড়োজাহাজ, অনেক সামরিক সদস্য পরিবারসহ নিখোঁজ হন, কেউ হারান স্ত্রী, সন্তান বা ভাই-বোনকে।

সেদিন রাত ১০টার পর হঠাৎই সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ে লোকালয়ে। মুহূর্তেই মানুষের জীবনে নামে অন্ধকার। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেননি, কেউবা কোনো সতর্ক বার্তাও পাননি। আবহাওয়া বিভাগ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করলেও সচেতনতার অভাবে অনেকে ছিলেন ঘরে।

আজ, ৩৪ বছর পরেও উপকূলীয় মানুষ সেই রাতের ভয়াল স্মৃতি ভুলতে পারেননি। এখনো ঘূর্ণিঝড়ের খবর পেলেই আতঙ্কে কেঁপে ওঠে তাদের হৃদয়।

এই দিনটিকে স্মরণ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রিয়জন হারানোর শোক পালনে আয়োজন করেন দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ প্রার্থনার। ভয়াবহ সেই রাত যেন আর কখনো ফিরে না আসে এটাই আজ সবার প্রার্থনা।