ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিয়ের আগে যে ৪ স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 29

ছবি: সংগৃহীত

 

বিয়ে ঘিরে বর-কনের থাকে বাড়তি প্রস্তুতি। পোশাক, সাজসজ্জা থেকে শুরু করে নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন দুজনই। এই ব্যস্ততায় যুক্ত হন বর-কনের বন্ধু মহল আর পরিবারের লোকজন। তবে এসব প্রস্তুতির পাশাপাশি বিয়ের আগে নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু রোগ ও শারীরিক জটিলতা সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া অনেকটাই সহজ। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া, সিকল সেল অ্যানিমিয়ার মতো কিছু বংশগত রোগের ক্ষেত্রে বিয়ের আগে পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কেও এ ধরনের পরীক্ষা ধারণা দিতে পারে।

আরও পড়ুন  জ্বালানি সংকটে পাকিস্তানে কড়াকড়ি, বিয়েতে ১পদ, রাত ৯টায় দোকান বন্ধ

অনেকেই বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। এটির চর্চাও নেই। তবে বিয়ের পর সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হতে নিচের কয়েকটি পরীক্ষা বিবেচনা করা যেতে পারে।

রক্ত পরীক্ষা:

বিয়ের আগে বর-কনের রক্তের গ্রুপ জানা যেতে পারে, যা খুবই সহজ। এর পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি), রক্তে শর্করা এবং থাইরয়েড পরীক্ষা করা যেতে পারে। রক্ত পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষা বা চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

এইচআইভি পরীক্ষা:

বিয়ের আগে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি এবং সিফিলিসের মতো সংক্রমণের পরীক্ষা করা যেতে পারে। কোনো সংক্রমণ থাকলে তা আগে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এছাড়া গনোরিয়াসহ অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ সম্পর্কেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের মতো সমস্যাও চিকিৎসকের পরামর্শে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা যায়।

প্রজননস্বাস্থ্য ও ফার্টিলিটি পরীক্ষা:

বিয়ের আগে প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সন্তান ধারণের সক্ষমতা নিয়ে কোনো সমস্যা বা ঝুঁকি আছে কি না, তা প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। তবে সবার জন্য একই ধরনের ফার্টিলিটি পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। বয়স, শারীরিক অবস্থা, পূর্বের চিকিৎসা ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

জিনগত রোগের পরীক্ষা:

পরিবারে কোনো বংশগত রোগের ইতিহাস থাকলে বিয়ের আগে জেনেটিক কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনীয় জিনগত পরীক্ষা করা যেতে পারে। থ্যালাসেমিয়া, সিকল সেল অ্যানিমিয়ার মতো কিছু রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ধারণা পাওয়া সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে পরিবারে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার বা কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা মানেই সব ধরনের পরীক্ষা করাতে হবে এমন নয়। ব্যক্তির বয়স, পারিবারিক রোগের ইতিহাস, শারীরিক উপসর্গ ও ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করা সবচেয়ে উপযোগী। এতে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিয়ের আগে যে ৪ স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি

আপডেট সময় ১২:১৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বিয়ে ঘিরে বর-কনের থাকে বাড়তি প্রস্তুতি। পোশাক, সাজসজ্জা থেকে শুরু করে নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন দুজনই। এই ব্যস্ততায় যুক্ত হন বর-কনের বন্ধু মহল আর পরিবারের লোকজন। তবে এসব প্রস্তুতির পাশাপাশি বিয়ের আগে নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু রোগ ও শারীরিক জটিলতা সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া অনেকটাই সহজ। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া, সিকল সেল অ্যানিমিয়ার মতো কিছু বংশগত রোগের ক্ষেত্রে বিয়ের আগে পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কেও এ ধরনের পরীক্ষা ধারণা দিতে পারে।

আরও পড়ুন  ‘গট ম্যারিড’ দিয়ে বিয়ের খবর জানালেন মিষ্টি জান্নাত

অনেকেই বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। এটির চর্চাও নেই। তবে বিয়ের পর সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে এবং ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হতে নিচের কয়েকটি পরীক্ষা বিবেচনা করা যেতে পারে।

রক্ত পরীক্ষা:

বিয়ের আগে বর-কনের রক্তের গ্রুপ জানা যেতে পারে, যা খুবই সহজ। এর পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি), রক্তে শর্করা এবং থাইরয়েড পরীক্ষা করা যেতে পারে। রক্ত পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষা বা চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

এইচআইভি পরীক্ষা:

বিয়ের আগে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি এবং সিফিলিসের মতো সংক্রমণের পরীক্ষা করা যেতে পারে। কোনো সংক্রমণ থাকলে তা আগে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এছাড়া গনোরিয়াসহ অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ সম্পর্কেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের মতো সমস্যাও চিকিৎসকের পরামর্শে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা যায়।

প্রজননস্বাস্থ্য ও ফার্টিলিটি পরীক্ষা:

বিয়ের আগে প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সন্তান ধারণের সক্ষমতা নিয়ে কোনো সমস্যা বা ঝুঁকি আছে কি না, তা প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। তবে সবার জন্য একই ধরনের ফার্টিলিটি পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। বয়স, শারীরিক অবস্থা, পূর্বের চিকিৎসা ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

জিনগত রোগের পরীক্ষা:

পরিবারে কোনো বংশগত রোগের ইতিহাস থাকলে বিয়ের আগে জেনেটিক কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনীয় জিনগত পরীক্ষা করা যেতে পারে। থ্যালাসেমিয়া, সিকল সেল অ্যানিমিয়ার মতো কিছু রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ধারণা পাওয়া সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে পরিবারে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার বা কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা মানেই সব ধরনের পরীক্ষা করাতে হবে এমন নয়। ব্যক্তির বয়স, পারিবারিক রোগের ইতিহাস, শারীরিক উপসর্গ ও ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করা সবচেয়ে উপযোগী। এতে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।