ঢাকা ০৮:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাইরের শক্তির হাতে নয়: আরাগচি জ্বালানি সংকটে পাকিস্তানে কড়াকড়ি, বিয়েতে ১পদ, রাত ৯টায় দোকান বন্ধ সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের আহ্বান: এলজিইডিকে মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নিজের বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন: প্রতিমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,০২০ গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনতে হবে: অর্থমন্ত্রী তেজগাঁওয়ে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জন রিমান্ডে সব মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণে অভিন্ন সিলেবাসের নির্দেশ “পরীক্ষা ভালো হবে না”, মা-বাবাকে চিরকুট লিখে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা আফগানিস্তান টেস্টে বাংলাদেশের দল ঘোষণা

জ্বালানি সংকটে পাকিস্তানে কড়াকড়ি, বিয়েতে ১পদ, রাত ৯টায় দোকান বন্ধ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৫২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 22

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী ও চলমান যুদ্ধ ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে সংকটের প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানে। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি এবং পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে লকডাউনসদৃশ বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। যার মধ্যে সরকারি যানবাহনে অর্ধেক জ্বালানি বরাদ্দ, কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে এক পদের খাবার পরিবেশনের নির্দেশ রয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পরবর্তী তিন মাস সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হবে। তবে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি সেবায় ব্যবহৃত যানবাহন এ বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম ছাড়া অন্যান্য স্থায়ী বা ভারী পণ্য কেনা বন্ধ থাকবে। সরকারি কাজে নতুন গাড়ি কেনাতেও পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মী-সংক্রান্ত নয় এমন সরকারি ব্যয়ে ৫ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে।
জ্বালানি ও সরকারি ব্যয় কমাতে কর্মকর্তাদের সম্ভব হলে সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে টেলিকনফারেন্স বা অনলাইন সভা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে অপ্রয়োজনীয় সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও সম্মেলনও এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদলের জন্য প্রয়োজনীয় নৈশভোজ ছাড়া সরকারি নৈশভোজ বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন  বিয়ের খরচ চিন্তা করে এখনো সিঙ্গেল সালমান খান!

কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও। পরবর্তী তিন মাস সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের বিদেশ সফর বন্ধ থাকবে। তবে স্কলারশিপ এবং একান্ত প্রয়োজনীয় সফরের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। জরুরি সফরে মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের বিমানের ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতে হবে।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও খাবারের দোকান বন্ধ হবে রাত ১১টায়। দোকান, বাজার, মুদিদোকান, বিপণিবিতান ও শপিং মল রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। বিয়ের হল ও অন্যান্য অনুষ্ঠানস্থল বন্ধ করতে হবে রাত ১০টার মধ্যে। তবে ফার্মেসি, হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল ল্যাবরেটরি, জ্বালানি ও সিএনজি স্টেশন, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন, জিম, ক্রীড়া স্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কল সেন্টার এ সময়সীমার বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে।

এ ধরনের কৃচ্ছ্রসাধন পাকিস্তানে এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো নেওয়া হলো। এর আগে মার্চে একই ধরনের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছিল। সরকারি দপ্তরগুলোতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং কর্মীদের বাসা থেকে কাজের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি সংকটে পাকিস্তানে কড়াকড়ি, বিয়েতে ১পদ, রাত ৯টায় দোকান বন্ধ

আপডেট সময় ০৭:৫২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালী ও চলমান যুদ্ধ ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে সংকটের প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানে। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি এবং পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধির মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে লকডাউনসদৃশ বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার। যার মধ্যে সরকারি যানবাহনে অর্ধেক জ্বালানি বরাদ্দ, কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে এক পদের খাবার পরিবেশনের নির্দেশ রয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পরবর্তী তিন মাস সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হবে। তবে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি সেবায় ব্যবহৃত যানবাহন এ বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম ছাড়া অন্যান্য স্থায়ী বা ভারী পণ্য কেনা বন্ধ থাকবে। সরকারি কাজে নতুন গাড়ি কেনাতেও পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মী-সংক্রান্ত নয় এমন সরকারি ব্যয়ে ৫ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে।
জ্বালানি ও সরকারি ব্যয় কমাতে কর্মকর্তাদের সম্ভব হলে সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে টেলিকনফারেন্স বা অনলাইন সভা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে অপ্রয়োজনীয় সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও সম্মেলনও এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদলের জন্য প্রয়োজনীয় নৈশভোজ ছাড়া সরকারি নৈশভোজ বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন  মানবিক সহায়তার জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিচ্ছে ইরান

কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও। পরবর্তী তিন মাস সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের বিদেশ সফর বন্ধ থাকবে। তবে স্কলারশিপ এবং একান্ত প্রয়োজনীয় সফরের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। জরুরি সফরে মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের বিমানের ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতে হবে।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও খাবারের দোকান বন্ধ হবে রাত ১১টায়। দোকান, বাজার, মুদিদোকান, বিপণিবিতান ও শপিং মল রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। বিয়ের হল ও অন্যান্য অনুষ্ঠানস্থল বন্ধ করতে হবে রাত ১০টার মধ্যে। তবে ফার্মেসি, হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল ল্যাবরেটরি, জ্বালানি ও সিএনজি স্টেশন, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশন, জিম, ক্রীড়া স্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কল সেন্টার এ সময়সীমার বিধিনিষেধের বাইরে থাকবে।

এ ধরনের কৃচ্ছ্রসাধন পাকিস্তানে এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো নেওয়া হলো। এর আগে মার্চে একই ধরনের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছিল। সরকারি দপ্তরগুলোতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং কর্মীদের বাসা থেকে কাজের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল।