ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সুপারিশে ক্ষুব্ধ দিল্লি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫
  • / 292

ছবি: সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন ইউএসসিআইআরএফ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভারতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতার চিত্র উদ্বেগজনকভাবে অবনতি ঘটছে। সেই সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (RAW)-এর ওপর টার্গেটেড নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে RAW-এর জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। এ ছাড়াও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার দমন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন  কাশ্মীর হামলার ‘কঠোর জবাব’ দেয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন নরেন্দ্র মোদি

এই প্রতিবেদন ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বুধবার এক বিবৃতিতে জানান, ইউএসসিআইআরএফ-এর ২০২৫ সালের রিপোর্ট নজরে এসেছে, যা আগের মতোই পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, “একটি এজেন্ডাভিত্তিক সংস্থা এ ধরনের মন্তব্য করলে, তার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে সব ধর্মের অনুসারীরা আছেন। এখানে সকল সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে। একটি প্রাণবন্ত ও বহুত্ববাদী সমাজ ব্যবস্থার ওপর এই ধরনের বিদেশি সমালোচনা শুধু মিথ্যাচার নয়, এটি একটি সাজানো প্রচেষ্টা।”

ভারতের মতে, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার অপব্যাখ্যা করে গোটা সমাজব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে ইউএসসিআইআরএফ। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি একপাক্ষিক এবং রাজনৈতিক স্বার্থে প্রভাবিত।

প্রতিবেদনে শুধু ভারত নয়, ভিয়েতনাম নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশটি ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণের মাত্রা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ থাকা সত্ত্বেও ভিয়েতনামকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে এমন অভিযোগ ও প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়াতে পারে। ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সুপারিশে ক্ষুব্ধ দিল্লি

আপডেট সময় ০৫:০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ ২০২৫

 

যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন ইউএসসিআইআরএফ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভারতের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতার চিত্র উদ্বেগজনকভাবে অবনতি ঘটছে। সেই সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (RAW)-এর ওপর টার্গেটেড নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে RAW-এর জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। এ ছাড়াও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক নিপীড়ন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার দমন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন  কাশ্মীর হামলার ‘কঠোর জবাব’ দেয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন নরেন্দ্র মোদি

এই প্রতিবেদন ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বুধবার এক বিবৃতিতে জানান, ইউএসসিআইআরএফ-এর ২০২৫ সালের রিপোর্ট নজরে এসেছে, যা আগের মতোই পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, “একটি এজেন্ডাভিত্তিক সংস্থা এ ধরনের মন্তব্য করলে, তার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে সব ধর্মের অনুসারীরা আছেন। এখানে সকল সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে। একটি প্রাণবন্ত ও বহুত্ববাদী সমাজ ব্যবস্থার ওপর এই ধরনের বিদেশি সমালোচনা শুধু মিথ্যাচার নয়, এটি একটি সাজানো প্রচেষ্টা।”

ভারতের মতে, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার অপব্যাখ্যা করে গোটা সমাজব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে ইউএসসিআইআরএফ। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি একপাক্ষিক এবং রাজনৈতিক স্বার্থে প্রভাবিত।

প্রতিবেদনে শুধু ভারত নয়, ভিয়েতনাম নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশটি ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণের মাত্রা বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ থাকা সত্ত্বেও ভিয়েতনামকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে এমন অভিযোগ ও প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়াতে পারে। ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।