ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :

কেনিয়ায় পুলিশ ফাঁড়িতে ভয়াবহ হামলা: ৬ পুলিশ নিহত, আল-শাবাব সন্দেহে তোলপাড়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫
  • / 448

ছবি সংগৃহীত

 

উত্তর-পূর্ব কেনিয়ার গারিসা কাউন্টিতে অবস্থিত একটি পুলিশ ফাঁড়িতে ভয়াবহ হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। রবিবার ভোরে নামাজের প্রস্তুতির সময় চালানো এই হামলায় আরও চার জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে, গারিসার ফাঁড়িটিতে অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। হামলার ধরন দেখে সোমালিভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আল-শাবাবকেই সন্দেহ করছে দেশটির প্রশাসন, যদিও এখনো পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

আরও পড়ুন  ইরানের প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা

গারিসা কাউন্টি কমিশনার মোহাম্মদ মওয়াবুদজো বলেন, “হামলার পদ্ধতি ও সময় দেখে পরিষ্কার, এটি আল-শাবাবের কৌশলের সঙ্গে মিলে যায়। তারা প্রায়ই এই ধরনের পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে থাকে।” হামলার সময় ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সকালের নামাজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক সেই সময় হামলাকারীরা বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। মুহূর্তেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা ছিল ভালোভাবে সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত। তারা রিজার্ভ পুলিশের ফাঁড়ির ওপর লক্ষ্য করে মর্টার শেল, গ্রেনেড এবং স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে।

আল-শাবাব, পূর্ব আফ্রিকায় সক্রিয় একটি জঙ্গি সংগঠন, দীর্ঘদিন ধরেই কেনিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে সোমালিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। এই হামলা আরও একবার প্রমাণ করলো সীমান্ত নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের হামলা শুধু কেনিয়ার জন্য নয়, গোটা পূর্ব আফ্রিকার নিরাপত্তার জন্যই হুমকিস্বরূপ। সোমালিয়ায় অবস্থানকারী আল-শাবাব সদস্যরা প্রায়ই সীমান্ত অতিক্রম করে এসে এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে থাকে।

দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী হামলার পরপরই অভিযান শুরু করেছে। ফাঁড়ির আশেপাশের এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজন হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কেনিয়া সরকার হামলার ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কেনিয়ায় পুলিশ ফাঁড়িতে ভয়াবহ হামলা: ৬ পুলিশ নিহত, আল-শাবাব সন্দেহে তোলপাড়

আপডেট সময় ০৫:৫৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

 

উত্তর-পূর্ব কেনিয়ার গারিসা কাউন্টিতে অবস্থিত একটি পুলিশ ফাঁড়িতে ভয়াবহ হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। রবিবার ভোরে নামাজের প্রস্তুতির সময় চালানো এই হামলায় আরও চার জন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে, গারিসার ফাঁড়িটিতে অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। হামলার ধরন দেখে সোমালিভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আল-শাবাবকেই সন্দেহ করছে দেশটির প্রশাসন, যদিও এখনো পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালীর কাছে মাল্টার পতাকাবাহী তেল ট্যাংকারে ইরানের হামলা

গারিসা কাউন্টি কমিশনার মোহাম্মদ মওয়াবুদজো বলেন, “হামলার পদ্ধতি ও সময় দেখে পরিষ্কার, এটি আল-শাবাবের কৌশলের সঙ্গে মিলে যায়। তারা প্রায়ই এই ধরনের পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে থাকে।” হামলার সময় ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সকালের নামাজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক সেই সময় হামলাকারীরা বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। মুহূর্তেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা ছিল ভালোভাবে সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত। তারা রিজার্ভ পুলিশের ফাঁড়ির ওপর লক্ষ্য করে মর্টার শেল, গ্রেনেড এবং স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে।

আল-শাবাব, পূর্ব আফ্রিকায় সক্রিয় একটি জঙ্গি সংগঠন, দীর্ঘদিন ধরেই কেনিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে সোমালিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। এই হামলা আরও একবার প্রমাণ করলো সীমান্ত নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের হামলা শুধু কেনিয়ার জন্য নয়, গোটা পূর্ব আফ্রিকার নিরাপত্তার জন্যই হুমকিস্বরূপ। সোমালিয়ায় অবস্থানকারী আল-শাবাব সদস্যরা প্রায়ই সীমান্ত অতিক্রম করে এসে এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে থাকে।

দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী হামলার পরপরই অভিযান শুরু করেছে। ফাঁড়ির আশেপাশের এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজন হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কেনিয়া সরকার হামলার ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।