ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

মার্কিন শিক্ষা বিভাগ বিলুপ্তির পথে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিতর্ক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
  • / 223

ছবি: সংগৃহীত

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির শিক্ষা বিভাগ বন্ধের লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার এই আদেশে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে, যা তার অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ।

তবে এই সিদ্ধান্তের আগেই তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি দল ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের করেছে। তারা শিক্ষা বিভাগ বন্ধ এবং সম্প্রতি ঘোষিত অর্ধেক কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ঠেকাতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে কঠিন পথে হাঁটবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

নাগরিক অধিকার রক্ষায় অন্যতম সংগঠন এনএএসিপি ট্রাম্পের আদেশকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ডেরিক জনসন বলেন, “এটি লাখ লাখ শিশুর জন্য একটি ভয়াবহ দিন, বিশেষ করে দরিদ্র ও গ্রামীণ সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা ফেডারেল তহবিলের ওপর নির্ভরশীল।”

ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা ইলন মাস্ক কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি)-সহ একাধিক সরকারি সংস্থা বন্ধের চেষ্টা করেছেন। এবারই প্রথম তিনি মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ের একটি সংস্থা বিলুপ্ত করতে যাচ্ছেন, যা ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়। রিপাবলিকানদের সিনেটে ৫৩-৪৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, সংস্থাটি বিলুপ্ত করতে ৬০ ভোট প্রয়োজন। অর্থাৎ, ডেমোক্র্যাটদের অন্তত সাতজন সদস্যের সমর্থন ছাড়া এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কিন্তু ডেমোক্র্যাট সিনেটররা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা শিক্ষা বিভাগ রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সিনেটর প্যাটি মারে ট্রাম্প ও মাস্কের উদ্যোগকে ‘স্ল্যাশ অ্যান্ড বার্ন ক্যাম্পেইন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, “এই পদক্ষেপ মার্কিন শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। শিক্ষা বিভাগের অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই এবং গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।”

সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে শিক্ষা সচিব লিন্ডা ম্যাকমাহনকে বিভাগটি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ম্যাকমাহন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কর্মীসংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেন এবং ‘চূড়ান্ত মিশন’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেন।

ফেডারেল সরকার মার্কিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় সীমিত ভূমিকা রাখলেও, নিম্ন আয়ের স্কুল ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় শিক্ষা বিভাগের ভূমিকা অপরিহার্য।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা বিভাগ বিলুপ্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষায়, এটি “একটি বড় প্রতারণা”, যা আমেরিকান জনগণের ট্যাক্সের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। তবে তার এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যেখানে অনেকেই মনে করছেন, এই উদ্যোগ শিক্ষার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন শিক্ষা বিভাগ বিলুপ্তির পথে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিতর্ক

আপডেট সময় ০২:১৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির শিক্ষা বিভাগ বন্ধের লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার এই আদেশে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে, যা তার অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ।

তবে এই সিদ্ধান্তের আগেই তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি দল ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের করেছে। তারা শিক্ষা বিভাগ বন্ধ এবং সম্প্রতি ঘোষিত অর্ধেক কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ঠেকাতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

আরও পড়ুন  তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগবে না, কারণ আমি এসে গেছি: ট্রাম্প

নাগরিক অধিকার রক্ষায় অন্যতম সংগঠন এনএএসিপি ট্রাম্পের আদেশকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ডেরিক জনসন বলেন, “এটি লাখ লাখ শিশুর জন্য একটি ভয়াবহ দিন, বিশেষ করে দরিদ্র ও গ্রামীণ সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা ফেডারেল তহবিলের ওপর নির্ভরশীল।”

ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা ইলন মাস্ক কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি)-সহ একাধিক সরকারি সংস্থা বন্ধের চেষ্টা করেছেন। এবারই প্রথম তিনি মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ের একটি সংস্থা বিলুপ্ত করতে যাচ্ছেন, যা ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়। রিপাবলিকানদের সিনেটে ৫৩-৪৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, সংস্থাটি বিলুপ্ত করতে ৬০ ভোট প্রয়োজন। অর্থাৎ, ডেমোক্র্যাটদের অন্তত সাতজন সদস্যের সমর্থন ছাড়া এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কিন্তু ডেমোক্র্যাট সিনেটররা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা শিক্ষা বিভাগ রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সিনেটর প্যাটি মারে ট্রাম্প ও মাস্কের উদ্যোগকে ‘স্ল্যাশ অ্যান্ড বার্ন ক্যাম্পেইন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, “এই পদক্ষেপ মার্কিন শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। শিক্ষা বিভাগের অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই এবং গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।”

সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানায়, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে শিক্ষা সচিব লিন্ডা ম্যাকমাহনকে বিভাগটি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ম্যাকমাহন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কর্মীসংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেন এবং ‘চূড়ান্ত মিশন’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেন।

ফেডারেল সরকার মার্কিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় সীমিত ভূমিকা রাখলেও, নিম্ন আয়ের স্কুল ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় শিক্ষা বিভাগের ভূমিকা অপরিহার্য।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা বিভাগ বিলুপ্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষায়, এটি “একটি বড় প্রতারণা”, যা আমেরিকান জনগণের ট্যাক্সের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। তবে তার এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, যেখানে অনেকেই মনে করছেন, এই উদ্যোগ শিক্ষার ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেবে।