ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

নেপালের কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে বিশাল মিছিল, রাজনীতির প্রতি হতাশ জনতা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
  • / 381

ছবি: সংগৃহীত

 

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হিন্দুধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ফিরিয়ে আনার দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে। রবিবার, রাজধানীর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন প্রধান ফটক বন্ধ করে প্রায় ১০ হাজার লোক সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহকে সংবর্ধনা জানিয়ে এই দাবি উত্থাপন করেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নানা স্লোগান দিতে থাকে—‘রাজার জন্য রাজপ্রাসাদ খালি করুন’, ‘রাজা ফিরে আসুন, দেশকে রক্ষা করুন’, ‘আমাদের প্রিয় রাজা দীর্ঘজীবী হোন’, ‘আমরা রাজতন্ত্র চাই’। সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ দেশের পশ্চিমাঞ্চল সফর শেষে বিমানবন্দরে ফিরলে, তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে এই মিছিল শুরু হয়। বিমানবন্দর গেট বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পা দিয়ে বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন  নেপাল নির্বাচন ২০২৬: ভোট ৫ মার্চ, লড়াইয়ে ওলি-বালেনসহ শীর্ষ নেতারা

স্থানীয় দাঙ্গা পুলিশ মিছিলকারীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে বাধা দিলেও, কোন ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেনি। তবে এই বিক্ষোভ ছিল দৃশ্যমান, প্রভাবশালী এবং দাবি ছিল স্পষ্ট—রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হোক।

২০০৬ সালে নেপালে ব্যাপক গণবিক্ষোভের পর রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জ্ঞানেন্দ্র শাহকে তাঁর কর্তৃত্ব থেকে সরে যেতে হয়। এরপর, ২০০৮ সালে সংসদ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করার পক্ষে ভোট দেয়। তার পর থেকে জ্ঞানেন্দ্র সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন শুরু করেন।

তবে সম্প্রতি অনেক নেপালি নাগরিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রজাতন্ত্র দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে এবং রাষ্ট্রের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তারা বিশ্বাস করেন যে, নেপালের দুর্বল অর্থনীতি এবং ব্যাপক দুর্নীতির জন্য প্রজাতন্ত্র দায়ী। ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর, নেপালে ১৩টি সরকার পরিবর্তিত হয়েছে, যা দেশের শাসনব্যবস্থাকে আরও অস্থির করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবির সঙ্গে আরও অনেকেই একাত্মতা ঘোষণা করেছে। তাদের মতে, দেশের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য একমাত্র উপায় রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালের কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে বিশাল মিছিল, রাজনীতির প্রতি হতাশ জনতা

আপডেট সময় ০৫:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫

 

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হিন্দুধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ফিরিয়ে আনার দাবিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে। রবিবার, রাজধানীর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন প্রধান ফটক বন্ধ করে প্রায় ১০ হাজার লোক সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহকে সংবর্ধনা জানিয়ে এই দাবি উত্থাপন করেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নানা স্লোগান দিতে থাকে—‘রাজার জন্য রাজপ্রাসাদ খালি করুন’, ‘রাজা ফিরে আসুন, দেশকে রক্ষা করুন’, ‘আমাদের প্রিয় রাজা দীর্ঘজীবী হোন’, ‘আমরা রাজতন্ত্র চাই’। সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ দেশের পশ্চিমাঞ্চল সফর শেষে বিমানবন্দরে ফিরলে, তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে এই মিছিল শুরু হয়। বিমানবন্দর গেট বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পা দিয়ে বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন  ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দিল নেপাল,হারলেও লড়াইয়ে উজ্জ্বল ছিল দলটি

স্থানীয় দাঙ্গা পুলিশ মিছিলকারীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে বাধা দিলেও, কোন ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেনি। তবে এই বিক্ষোভ ছিল দৃশ্যমান, প্রভাবশালী এবং দাবি ছিল স্পষ্ট—রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হোক।

২০০৬ সালে নেপালে ব্যাপক গণবিক্ষোভের পর রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং জ্ঞানেন্দ্র শাহকে তাঁর কর্তৃত্ব থেকে সরে যেতে হয়। এরপর, ২০০৮ সালে সংসদ রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করার পক্ষে ভোট দেয়। তার পর থেকে জ্ঞানেন্দ্র সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন শুরু করেন।

তবে সম্প্রতি অনেক নেপালি নাগরিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রজাতন্ত্র দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে এবং রাষ্ট্রের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। তারা বিশ্বাস করেন যে, নেপালের দুর্বল অর্থনীতি এবং ব্যাপক দুর্নীতির জন্য প্রজাতন্ত্র দায়ী। ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর, নেপালে ১৩টি সরকার পরিবর্তিত হয়েছে, যা দেশের শাসনব্যবস্থাকে আরও অস্থির করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবির সঙ্গে আরও অনেকেই একাত্মতা ঘোষণা করেছে। তাদের মতে, দেশের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য একমাত্র উপায় রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা।