ঢাকা ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন
ইউরোপের সামনে নিরাপত্তা সংকট কৌশল কি ট্রাম্পের নতুন বিভাজন?

প্রভাব ঠেকাতে ইউরোপের তুরুপের তাস কি কিয়ার স্টারমার?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
  • / 265

ছবি সংগৃহীত

 

ইউরোপ এখন এক কঠিন সংকটের মুখে। ঐক্যের পরিবর্তে দেশগুলোর মধ্যে স্বার্থরক্ষার প্রতিযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক জোট, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তিগুলো কার্যকর না হলে, এগুলো উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বর্তমানে এমনই এক কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ ইউক্রেন ও ইউরোপের নিরাপত্তাকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য অবজ্ঞা এবং রাশিয়ার প্রতি তার ইতিবাচক মনোভাব ইউরোপীয় নেতাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ট্রাম্প ইউরোপকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব তারা নিজেরাই নিক। এতে ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পকে দ্রুত পদচ্যুত করার দাবি এনএএসিপি-র

এই সংকটে ইউরোপের জন্য তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথমত, ইইউয়ের সদস্য দেশগুলো এখন নিজেরাই নিরাপত্তার নেতৃত্ব নিতে চাইছে, ন্যাটো বা ইইউ কমিশনের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প প্রশাসন ইইউর প্রতি শত্রুতা প্রকাশ্যেই দেখাচ্ছে। তিনি ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন এবং ইউক্রেন ইস্যুতে ইইউকে সম্পূর্ণ বাদ দিতে চাইছেন। তৃতীয়ত, দীর্ঘদিন ইউরোপীয় রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর ব্রিটেন এখন আবারও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেতুবন্ধনের উদ্যোগ নিচ্ছেন, যদিও ট্রাম্প ব্রিটেনকে ইউরোপের মধ্যে বিভাজন তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ইতোমধ্যে নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। ট্রাম্প ইউক্রেনের পাশে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তিনি প্যারিসে জরুরি বৈঠক ডাকেন এবং ওয়াশিংটনে গিয়ে ইউরোপের নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি জানান। অন্যদিকে, জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইউরোপকে দ্রুত নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো কি ন্যাটোর বাইরে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা জোট গঠন করতে পারবে? ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের মধ্যে ৩০টিই ইউরোপীয়, তবুও সংস্থার নেতৃত্ব মার্কিন হাতে। ট্রাম্পের মনোভাব বিবেচনায় রেখে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও প্রকট হয়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এখনো ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন কিয়েভ সফর করলেও সেটি ছিল প্রতীকী। ওয়াশিংটনের কাছে ইইউ এখন অনেকটাই অদৃশ্য হয়ে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ইইউর সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছে না, যা তাদের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।

এ পরিস্থিতিতে ইইউ নিজেদের গুরুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের জন্য ২০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট। ইতালি, স্পেন ও পর্তুগাল তেমন আগ্রহী নয়, আর হাঙ্গেরি আগের মতোই রাশিয়াপন্থী অবস্থান ধরে রেখেছে।

এই সংকট দেখিয়ে দিয়েছে যে ইইউর নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। জাতীয় স্বার্থে একক দেশগুলোর ভেটো ক্ষমতা কমিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু সংকট অপেক্ষা করবে না তাই জাতীয় সরকারগুলোই এখন ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য বিকল্প পথ খুঁজছে।

ব্রিটেনের কিয়ার স্টারমার ইতোমধ্যে ইউক্রেনের জন্য ‘নিরাপত্তা বাহিনী’ গঠনের পরিকল্পনায় মাখোঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। লন্ডনে ইউরোপীয় নেতাদের নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেছেন, যেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনার বিষয়ে ব্রিফ করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউরোপের সামনে নিরাপত্তা সংকট কৌশল কি ট্রাম্পের নতুন বিভাজন?

প্রভাব ঠেকাতে ইউরোপের তুরুপের তাস কি কিয়ার স্টারমার?

আপডেট সময় ১০:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

 

ইউরোপ এখন এক কঠিন সংকটের মুখে। ঐক্যের পরিবর্তে দেশগুলোর মধ্যে স্বার্থরক্ষার প্রতিযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক জোট, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তিগুলো কার্যকর না হলে, এগুলো উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বর্তমানে এমনই এক কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ ইউক্রেন ও ইউরোপের নিরাপত্তাকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য অবজ্ঞা এবং রাশিয়ার প্রতি তার ইতিবাচক মনোভাব ইউরোপীয় নেতাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ট্রাম্প ইউরোপকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব তারা নিজেরাই নিক। এতে ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন  গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে আগামী সপ্তাহেই : ট্রাম্প

এই সংকটে ইউরোপের জন্য তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথমত, ইইউয়ের সদস্য দেশগুলো এখন নিজেরাই নিরাপত্তার নেতৃত্ব নিতে চাইছে, ন্যাটো বা ইইউ কমিশনের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প প্রশাসন ইইউর প্রতি শত্রুতা প্রকাশ্যেই দেখাচ্ছে। তিনি ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন এবং ইউক্রেন ইস্যুতে ইইউকে সম্পূর্ণ বাদ দিতে চাইছেন। তৃতীয়ত, দীর্ঘদিন ইউরোপীয় রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর ব্রিটেন এখন আবারও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেতুবন্ধনের উদ্যোগ নিচ্ছেন, যদিও ট্রাম্প ব্রিটেনকে ইউরোপের মধ্যে বিভাজন তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ইতোমধ্যে নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। ট্রাম্প ইউক্রেনের পাশে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তিনি প্যারিসে জরুরি বৈঠক ডাকেন এবং ওয়াশিংটনে গিয়ে ইউরোপের নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দাবি জানান। অন্যদিকে, জার্মানির নতুন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইউরোপকে দ্রুত নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো কি ন্যাটোর বাইরে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা জোট গঠন করতে পারবে? ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের মধ্যে ৩০টিই ইউরোপীয়, তবুও সংস্থার নেতৃত্ব মার্কিন হাতে। ট্রাম্পের মনোভাব বিবেচনায় রেখে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও প্রকট হয়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এখনো ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন কিয়েভ সফর করলেও সেটি ছিল প্রতীকী। ওয়াশিংটনের কাছে ইইউ এখন অনেকটাই অদৃশ্য হয়ে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ইইউর সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছে না, যা তাদের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।

এ পরিস্থিতিতে ইইউ নিজেদের গুরুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের জন্য ২০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট। ইতালি, স্পেন ও পর্তুগাল তেমন আগ্রহী নয়, আর হাঙ্গেরি আগের মতোই রাশিয়াপন্থী অবস্থান ধরে রেখেছে।

এই সংকট দেখিয়ে দিয়েছে যে ইইউর নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। জাতীয় স্বার্থে একক দেশগুলোর ভেটো ক্ষমতা কমিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু সংকট অপেক্ষা করবে না তাই জাতীয় সরকারগুলোই এখন ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য বিকল্প পথ খুঁজছে।

ব্রিটেনের কিয়ার স্টারমার ইতোমধ্যে ইউক্রেনের জন্য ‘নিরাপত্তা বাহিনী’ গঠনের পরিকল্পনায় মাখোঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। লন্ডনে ইউরোপীয় নেতাদের নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেছেন, যেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনার বিষয়ে ব্রিফ করবেন।