এপস্টেইন ফাইল প্রকাশে অসংগতি, লাখ লাখ পৃষ্ঠা কোথায়?
- আপডেট সময় ০৩:০৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 14
যুক্তরাষ্ট্রের যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের উল্লেখ এবং বিপুলসংখ্যক পৃষ্ঠার ধারাবাহিকতায় অসংগতি পেয়েছে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। তবে কোন তথ্য বাদ পড়েছে এবং কেন সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত সিবিএস নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টেইন-সংক্রান্ত অন্তত তিনটি নথিতে শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে একটি নথি থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চে তৎকালীন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের দপ্তরে এপস্টেইন-সম্পর্কিত শ্রেণিবদ্ধ উপকরণ পাঠানো হয়েছিল।
এর আগে ব্ল্যাঞ্চ দাবি করেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এপস্টেইন-সংক্রান্ত কোনো নথি আটকে রাখা হয়নি বা সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়নি। তবে নতুন অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য থেকে ঠিক কী ধরনের উপকরণ শ্রেণিবদ্ধ ছিল কিংবা সেগুলো প্রকাশিত নথির বাইরে রাখা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এপস্টেইন-সংক্রান্ত প্রায় ৬০ লাখ পৃষ্ঠার নথি সংগ্রহ করা হয়েছিল। পর্যালোচনার পর এর মধ্যে ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, একই তথ্যের পুনরাবৃত্তি, আইনজীবী ও মক্কেলের মধ্যকার গোপনীয় যোগাযোগ এবং মামলার সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতার বিষয় বিবেচনা করে বাকি নথি প্রকাশ করা হয়নি।
তবে প্রকাশিত নথির নম্বর বিশ্লেষণ করে আর্থিক নথি ও ইমেইলের ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের অসংগতি শনাক্ত করেছে সিবিএস নিউজ। এপস্টেইনের ব্যাংক হিসাবের প্রায় চার হাজার ৫০০টি চেকের ছবির মধ্যে ৬৬টি ছবি অনুপস্থিত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কিছু নথির পুরোনো নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত পাতার নম্বরেরও অমিল দেখা গেছে।
সাবেক মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটর বারবারা ম্যাককুয়েড সিবিএস নিউজকে বলেছেন, আর্থিক নথি বাদ দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদিত কোনো শ্রেণির মধ্যে পড়ে না।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ইমেইলের নম্বরের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করেও বিপুলসংখ্যক পৃষ্ঠার সম্ভাব্য ঘাটতির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এসব পৃষ্ঠা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়েছে, নাকি একই ইমেইলের পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া কিংবা নথি পর্যালোচনার সময় ভুলের কারণে এই অসংগতি তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিকে এপস্টেইন-সংক্রান্ত আরও নথি প্রকাশ এবং তথ্য গোপন বা বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যার দাবিতে স্বাধীন সাংবাদিক কেটি ফ্যাং বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের কয়েকটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বিচার বিভাগ।
এর আগে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রক্রিয়ায় কিছু ভুলের কথা স্বীকার করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। তবে সিবিএস নিউজের অনুসন্ধানে উঠে আসা নতুন তথ্য নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি বিভাগটি।
নথির নম্বর ও ধারাবাহিকতায় অসংগতি এবং শ্রেণিবদ্ধ উপকরণের উল্লেখ নতুন করে প্রশ্ন তুললেও, ঠিক কী তথ্য প্রকাশের বাইরে রয়েছে এবং সেগুলো বাদ দেওয়ার কারণ কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

























