গর্বের সঙ্গে বলছি, আমি দিমাগি নকশাল: নাসিরুদ্দিন শাহ
- আপডেট সময় ১১:১৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 24
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচকদের দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করেছেন অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মনোবল ভাঙা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা এবং গণতন্ত্রকে বিপন্ন করার চেষ্টা বন্ধ হওয়া উচিত।
এক ভিডিও বার্তায় ব্যঙ্গাত্মকভাবে নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেতা। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করলেই বিরোধীদের কখনো ‘দেশবিরোধী’, আবার কখনো ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এই প্রবণতার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গর্বের সঙ্গে বলছি, আমি একজন দিমাগি নকশাল।’
নাসিরুদ্দিন শাহের বক্তব্য ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা এবং সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রচার গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
ভিডিও বার্তায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে নাসিরুদ্দিন বলেন, প্রথমে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, এরপর সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং এখন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা চাপ ও নিপীড়নের মুখে পড়ছেন। এসব ঘটনা ভবিষ্যতেও স্মরণ করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ক্যাম্পাসে সহিংসতার অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। গত সপ্তাহেও তাঁদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ।
এবার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
জামিয়ার শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০০৬ সালের পর থেকে নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের সময়সীমা স্পষ্ট করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের এসব দাবির প্রসঙ্গ তুলে নাসিরুদ্দিন শাহ বৃহত্তরভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রতিবাদের পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
নিজের বক্তব্যে সংবাদমাধ্যমের একাংশ এবং বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখার বিরুদ্ধেও সমালোচনা করেন অভিনেতা। তাঁর অভিযোগ, সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে সংবাদমাধ্যমের কিছু অংশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রাজনৈতিক প্রচারযন্ত্র ভূমিকা রাখছে। সংবাদমাধ্যমের ওই অংশকে ‘গোদি মিডিয়া’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখার কর্মীদেরও সমালোচনা করেন নাসিরুদ্দিন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে আলাদা কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
ভিডিও বার্তার শেষ দিকে প্রতিবাদী কবিতার আশ্রয় নেন নাসিরুদ্দিন শাহ। তিনি বিসমিল আজিমাবাদির বিখ্যাত ‘সরফরোশি কি তমন্না’ কবিতার একটি পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেন। এরপর প্রতিবাদীদের উদ্দেশে বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যা কিছু প্রয়োগ করার আছে, সবই করা হোক। তবে তাতে দেশের যুবসমাজের মনোবল ভাঙা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা কিংবা গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।






















