যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে নতুন প্রস্তাব কাতারের
- আপডেট সময় ০১:১৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 20
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ বন্ধে সাত দিনের সময়সীমাভিত্তিক একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে কাতার। এতে প্রতিদিন আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া এবং চুক্তি বাস্তবায়নে কয়েকটি দেশের গ্যারান্টর হিসেবে থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটির আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে কাতারের মধ্যস্থতাকারী পক্ষ ও তেহরানের বক্তব্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, রোববার ইরানের কাছে নতুন শান্তি প্রস্তাবটি তুলে ধরা হয়। সপ্তাহের শেষ নাগাদ তেহরানের জবাব পাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, কাতার কিছু ‘অগ্রহণযোগ্য ধারণা’ দিয়েছে, যা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নয়।
আলোচনাসংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাতারের খসড়ায় দুই পক্ষের উদ্বেগ মোকাবিলায় সাত দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় প্রতিদিন আস্থা তৈরির জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার কথা রয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে এ প্রক্রিয়া চালু হতে পারে। চুক্তি কার্যকর করতে কয়েকটি দেশ গ্যারান্টর হিসেবেও যুক্ত হবে বলে জানান তিনি।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরুর পর্যায় থেকেই ইরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার আওতায় আনা হোক। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, আগে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হওয়ার পশ্চিমা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
এদিকে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর হুমকি দেন। একই সময়ে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেব্ল লক্ষ্য করে আক্রমণের বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছে তেহরান।
উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে মঙ্গলবার কাতার জানিয়েছিল, মধ্যস্থতার উদ্যোগ সফল করতে ইরানকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতি হুমকি বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।
চলমান সংঘাতের প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের আগের পর্যায়েই উপসাগরীয় দেশগুলো ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়েছিল। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াইও নতুন করে শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধে কাতারের নতুন উদ্যোগ কতটা অগ্রসর হয়, তা নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।






















