ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে ও বোন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:১৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 181

ছবি: সংগৃহীত

 

পিরোজপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর দাফন করা হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ ও জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত পরিবারের নারী সদস্যদের কবর খুঁড়ে শনিবার, ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থানকালে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে সেখানে স্বজনদের সঙ্গে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  পঞ্চদশ সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগের রায় বৃহস্পতিবার

মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার দেওয়া শেষে মরদেহের নিরাপত্তায় সদর থানা পুলিশ মোতায়েন থাকে।

রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহটি মানিক পশারীর বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরে তার স্ত্রী, মেয়ে, বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খনন করেন। রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন জানান, টুঙ্গিপাড়া থেকে মরদেহ পিরোজপুরে আনার পর সেখানে ঝামেলা হয়। পরিবারের সদস্যরা একবার কবর খনন করলেও পরে স্থানীয় লোকজন সেটি ভরাট করে দেন বলে তিনি দাবি করেন। পরে তারা আবার কবর খনন করেন এবং পুলিশ মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার পর পরিবারের সদস্যরাই দাফনের কাজ সম্পন্ন করেন। তার ভাষ্য, দাফনের সময় কোনো পুরুষ সদস্য এগিয়ে আসেননি।

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জেলা জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা বাধা দেননি। জামায়াতে ইসলামী লাশ নিয়ে রাজনীতি করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সদর থানা পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি যশোর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফন, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে ও বোন

আপডেট সময় ০৯:১৯:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

 

পিরোজপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর দাফন করা হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ ও জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত পরিবারের নারী সদস্যদের কবর খুঁড়ে শনিবার, ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থানকালে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে সেখানে স্বজনদের সঙ্গে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার দেওয়া শেষে মরদেহের নিরাপত্তায় সদর থানা পুলিশ মোতায়েন থাকে।

রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহটি মানিক পশারীর বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরে তার স্ত্রী, মেয়ে, বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খনন করেন। রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন জানান, টুঙ্গিপাড়া থেকে মরদেহ পিরোজপুরে আনার পর সেখানে ঝামেলা হয়। পরিবারের সদস্যরা একবার কবর খনন করলেও পরে স্থানীয় লোকজন সেটি ভরাট করে দেন বলে তিনি দাবি করেন। পরে তারা আবার কবর খনন করেন এবং পুলিশ মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার পর পরিবারের সদস্যরাই দাফনের কাজ সম্পন্ন করেন। তার ভাষ্য, দাফনের সময় কোনো পুরুষ সদস্য এগিয়ে আসেননি।

এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জেলা জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা বাধা দেননি। জামায়াতে ইসলামী লাশ নিয়ে রাজনীতি করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সদর থানা পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি যশোর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তার মৃত্যু হয়।