ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

আট প্রযুক্তি কোম্পানির গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 16

ছবি সংগৃহীত

 

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিসহ আটটি প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং কোম্পানির কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। জালিয়াতি রোধ এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার কথা বলে নেওয়া এ পদক্ষেপের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন স্থায়ী শ্রম সনদ আবেদনের প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন  কাশ্মীর সংকটে হস্তক্ষেপে আগ্রহী ট্রাম্প, ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস, উইপ্রো, কগনিজ্যান্ট, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনি।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করা এবং স্থায়ীভাবে বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ কঠিন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আসছেন ট্রাম্প। নতুন এ সিদ্ধান্তকে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের অভিবাসন কর্মসূচির বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসনের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি প্রযুক্তিকর্মীদের কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করার পাশাপাশি বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোম্পানিই মাইক্রোসফটের মতো এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করেনি।”

ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফট গত বছর ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-১বি অস্থায়ী কর্মী ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার গ্রিন কার্ডের সুবিধা নেওয়ার পরও ৬ হাজার মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে।

মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলাসহ কয়েকজন শীর্ষ প্রযুক্তিবিদকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এ মন্তব্য করেন ভ্যান্স।

সত্য নাদেলা একসময় এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন। সম্মাননা পাওয়া ধনকুবের ইলন মাস্কও একসময় এ ভিসার আওতায় ছিলেন। এ ছাড়া ওই অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া আরও তিনজন অভিবাসী।

নাদেলা সম্মাননার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধির জন্য তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন।

মার্কিন শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়ায় (পিএলসিপি) সবচেয়ে বেশি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে সাধারণত এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

এ ব্যবস্থায় কোনো নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হয়, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মজুরি বা কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

মাইক্রোসফট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির করা এইচ-১বি ভিসার আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল বর্তমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো কিংবা তাঁদের অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের জন্য। নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে এসব আবেদন করা হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে জুলাইয়ে মাইক্রোসফট জানিয়েছিল, তারা ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাই করবে। এ সংখ্যা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বব্যাপী মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ।

শ্রম বিভাগের কর্মকর্তা কিথ সন্ডারলিং জানিয়েছেন, মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবি ছাড়াও কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস এবং ক্যাপজেমিনি এ স্থগিতাদেশের আওতায় থাকবে।

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নতুন স্থায়ী শ্রম সনদের (পিএলসি) আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

সন্ডারলিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করেছে। এ সময়ে তাদের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে এবং ১ লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে এইচ-১বি ভিসাধারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল অ্যামাজন ডটকম। এরপর রয়েছে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, অ্যাপল ও মাইক্রোসফট।

ভ্যান্স জানিয়েছেন, যত দিন প্রয়োজন হবে, তত দিন এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। প্রশাসন চায়, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো তাদের কর্মী নিয়োগের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনুক।

ভ্যান্সের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান এমন চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে, যেগুলো কার্যকর নয়। পরে পর্যাপ্ত আবেদনকারী পাওয়া যায়নি—এমন যুক্তি দেখিয়ে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে মাইক্রোসফট বলেছে, এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত কর্মীদের একই ধরনের কাজ করা অন্য কর্মীদের সমপরিমাণ বেতন দেওয়া হয়।

স্থগিতাদেশের বিষয়ে অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, এইচসিএল টেকনোলজিস, উইপ্রো ও ক্যাপজেমিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন ন্যাসকম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। পাশাপাশি তাদের কর্মীদের তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক কর্মী স্থায়ী শ্রম সনদ বা পিইআরএম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আট প্রযুক্তি কোম্পানির গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন

আপডেট সময় ১০:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

 

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিসহ আটটি প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং কোম্পানির কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। জালিয়াতি রোধ এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার কথা বলে নেওয়া এ পদক্ষেপের ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন স্থায়ী শ্রম সনদ আবেদনের প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন  ২ কোটি প্রবীণকে ৯০ ডলার দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মাইক্রোসফট, অ্যাডোবি, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), ইনফোসিস, উইপ্রো, কগনিজ্যান্ট, এইচসিএল টেকনোলজিস ও ক্যাপজেমিনি।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করা এবং স্থায়ীভাবে বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ কঠিন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আসছেন ট্রাম্প। নতুন এ সিদ্ধান্তকে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের অভিবাসন কর্মসূচির বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসনের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি প্রযুক্তিকর্মীদের কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করার পাশাপাশি বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোম্পানিই মাইক্রোসফটের মতো এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করেনি।”

ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফট গত বছর ৬ হাজার ৩০০টি এইচ-১বি অস্থায়ী কর্মী ভিসা এবং প্রায় ৩ হাজার গ্রিন কার্ডের সুবিধা নেওয়ার পরও ৬ হাজার মার্কিন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে।

মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলাসহ কয়েকজন শীর্ষ প্রযুক্তিবিদকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এ মন্তব্য করেন ভ্যান্স।

সত্য নাদেলা একসময় এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন। সম্মাননা পাওয়া ধনকুবের ইলন মাস্কও একসময় এ ভিসার আওতায় ছিলেন। এ ছাড়া ওই অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া আরও তিনজন অভিবাসী।

নাদেলা সম্মাননার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধির জন্য তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন।

মার্কিন শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়ায় (পিএলসিপি) সবচেয়ে বেশি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে সাধারণত এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

এ ব্যবস্থায় কোনো নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হয়, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মজুরি বা কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

মাইক্রোসফট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির করা এইচ-১বি ভিসার আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল বর্তমান কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো কিংবা তাঁদের অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের জন্য। নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে এসব আবেদন করা হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে জুলাইয়ে মাইক্রোসফট জানিয়েছিল, তারা ৪ হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাই করবে। এ সংখ্যা প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বব্যাপী মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ।

শ্রম বিভাগের কর্মকর্তা কিথ সন্ডারলিং জানিয়েছেন, মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবি ছাড়াও কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস এবং ক্যাপজেমিনি এ স্থগিতাদেশের আওতায় থাকবে।

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নতুন স্থায়ী শ্রম সনদের (পিএলসি) আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

সন্ডারলিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করেছে। এ সময়ে তাদের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে এবং ১ লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সনদ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে এইচ-১বি ভিসাধারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল অ্যামাজন ডটকম। এরপর রয়েছে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, অ্যাপল ও মাইক্রোসফট।

ভ্যান্স জানিয়েছেন, যত দিন প্রয়োজন হবে, তত দিন এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। প্রশাসন চায়, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো তাদের কর্মী নিয়োগের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনুক।

ভ্যান্সের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠান এমন চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে, যেগুলো কার্যকর নয়। পরে পর্যাপ্ত আবেদনকারী পাওয়া যায়নি—এমন যুক্তি দেখিয়ে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।

তবে মাইক্রোসফট বলেছে, এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত কর্মীদের একই ধরনের কাজ করা অন্য কর্মীদের সমপরিমাণ বেতন দেওয়া হয়।

স্থগিতাদেশের বিষয়ে অ্যাডোবি, কগনিজ্যান্ট, ইনফোসিস, এইচসিএল টেকনোলজিস, উইপ্রো ও ক্যাপজেমিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন ন্যাসকম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। পাশাপাশি তাদের কর্মীদের তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক কর্মী স্থায়ী শ্রম সনদ বা পিইআরএম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন।