এআই প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
- আপডেট সময় ১২:০২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 27
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে উড্ডয়নপথ পরিবর্তনে সক্ষম একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন তাঁর মেয়ে কিম জু এ-কে সঙ্গে নিয়ে এই পরীক্ষা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
রোববার (৪ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য প্রকাশ করে।
কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রটি উড্ডয়নের সময় নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দাবি করেছেন, এআই প্রযুক্তির সহায়তায় ক্ষেপণাস্ত্রটি কম উচ্চতায় উড্ডয়নপথ বদলাতে সক্ষম। ফলে এটি প্রতিহত করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসানের কাছের একটি এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির ধরন কিংবা পরীক্ষার অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি দক্ষিণ কোরিয়া।
পরীক্ষা শেষে কিম জং উন বলেন, এদিনের মহড়ার মধ্য দিয়ে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সদস্যরা তাঁদের পেশাগত দক্ষতা ও পাল্টা হামলার প্রস্তুতি তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, “শত্রুকে আমাদের কৌশলগত আক্রমণাত্মক সক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা ও প্রাণঘাতী ক্ষমতা বারবার উপলব্ধি করাতে আমাদের দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।”
কেসিএনএর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটির পেছনে কমলা রঙের তীব্র আগুনের শিখা তৈরি হয়েছে। অন্য একটি ছবিতে কিম জং উনকে তাঁর মেয়ে জু এ ও স্ত্রী রি সল জুর পাশে দাঁড়িয়ে হাসতে দেখা যায়। এ সময় রি সল জুকে হাততালি দিতেও দেখা গেছে।
কেসিএনএ জানিয়েছে, সেনাদের ‘হাইপারসনিক কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা’ পরিচালনার প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।
২০২২ সালে প্রথমবার জনসমক্ষে আসার পর থেকে উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক অনুষ্ঠানে ক্রমেই বেশি উপস্থিত হচ্ছে কিম জং উনের মেয়ে জু এ। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, কিমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী।
এদিকে, সীমান্তবর্তী নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড) এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। ওই বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। তবে এ ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে পিয়ংইয়ং।
শুক্রবার উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যা দেয়। এতে দুই কোরিয়ার মধ্যে সংলাপ পুনরায় শুরুর বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বেসামরিক সরকারের উদ্যোগ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।




















