বাংলাদেশিদের পাচারের অভিযোগে মানবপাচারকারীদের বিচার শুরু স্পেনে
- আপডেট সময় ১১:৫৪:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 29
মৌরিতানিয়া থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে বাংলাদেশিদের পাচারের অভিযোগে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে স্পেনে বিচার শুরু হয়েছে। বুধবার লাস পালমাস আদালতে মামলাটির শুনানি শুরু হয়।
স্পেনের পুলিশের অভিযোগ, চক্রটি বাংলাদেশিদের ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রতি ১৩ হাজার ইউরো নিত। পরে তাদের ছোট নৌকা বা রাবারের নৌকায় তুলে ঝুঁকিপূর্ণ আটলান্টিক সমুদ্রপথে পাঠানো হতো।
চক্রটির নেতৃত্বে ছিলেন ‘মাস্টারমাইন্ড’ নামে পরিচিত ৫২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিক। মৌরিতানিয়ায় তার একাধিক রেস্তোরাঁ ছিল। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট তাকে মৌরিতানিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্পেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্পেনের পুলিশ বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তার নেতৃত্বাধীন চক্র মৌরিতানিয়া, সাহারা ও মরক্কো থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে ৭৩টি নৌযান পাঠিয়েছে। এসব নৌযানে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মানুষ ছিলেন। এ যাত্রায় সমুদ্রে আরও ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, চক্রের সদস্যরা তাদের মারধর, অপহরণ ও আটকে রাখার পাশাপাশি নির্ধারিত অর্থের বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের জন্য ভয়ভীতি দেখাতেন। কোথাও কোথাও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
এ মামলার আরেক বাংলাদেশি আসামি এসএমের বিচার আগামী সপ্তাহে লাস পালমাসে শুরু হবে। তার বিরুদ্ধে অনিয়মিত অভিবাসনে সহায়তার অভিযোগে চার বছর নয় মাসের কারাদণ্ড চেয়েছে সরকারি কৌঁসুলির দফতর।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ ও ২০২২ সালে ফুয়ের্তেভেনতুরা ও গ্রান কানারিয়ায় পৌঁছানো তিনটি নৌকা সংগঠনে এসএম জড়িত ছিলেন। ওই নৌকাগুলোতে মোট ১৬৬ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি ও তিনজন পাকিস্তানি নাগরিক।
এসএম ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, মৌরিতানিয়ায় পৌঁছানো বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পাঠানোর আগ পর্যন্ত থাকার ব্যবস্থা করতেন তিনি। এজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ ইউরো করে নেওয়া হতো বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২২ সালের অক্টোবরে গ্রান কানারিয়ায় এসএমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও কৌঁসুলিদের দাবি, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংগ্রহ করে মৌরিতানিয়ায় নেওয়া এবং পরে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে স্পেনে পাঠানোর একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
স্পেনের কর্তৃপক্ষের তদন্তে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানো নৌকাগুলোতে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকের উপস্থিতি বেড়ে আসার বিষয়টি সামনে আসে। এর পর আফ্রিকাভিত্তিক মানবপাচারকারী চক্রগুলোর এশিয়া থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশী সংগ্রহের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়।
সূত্র: ইনফোমাইগ্র্যান্টস
























