কারবালায় নেওয়া হবে খামেনির মরদেহ
- আপডেট সময় ০৬:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / 17
মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য ও দাফন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, তার মরদেহ ইরান ও ইরাকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহরে নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে ইরাকের ঐতিহাসিক শহর কারবালায়ও রাষ্ট্রীয় জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় শোক কমিটি ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী তেহরানের নির্মাণাধীন ইমাম খোমেনি মসজিদ কমপ্লেক্সে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানের প্রধান প্রধান সড়ক দিয়ে তার কফিন বহন করে শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহ প্রথমে ইরানের ধর্মীয় শহর কোমে নেওয়া হবে। পরে বিমানযোগে তা ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানো হবে।
নাজাফে ইমাম আলী (রা.)-এর মাজারে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ সড়কপথে কারবালায় নেওয়া হবে। বুধবার (৮ জুলাই) কারবালার বাইন আল-হারামাইন এলাকায় সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মরদেহ পুনরায় নাজাফ হয়ে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদে নেওয়া হবে। সেখানকার ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গনে তাকে দাফন করা হবে। একই স্থানে তার বাবার কবরও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তার পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন এবং তার পুত্র ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হন।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য আয়োজন একাধিকবার পিছিয়ে যায়। এর আগে এপ্রিল মাসে তার স্মরণে একটি সংক্ষিপ্ত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও সেটি পূর্ণাঙ্গ জানাজা ছিল না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, ছয় দিনব্যাপী এ রাষ্ট্রীয় আয়োজনে প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এ শেষকৃত্যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান সরকার।
কারবালা শিয়া মুসলমানদের কাছে অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.) সেখানে শাহাদাতবরণ করেন এবং তার মাজারও কারবালায় অবস্থিত। শিয়া ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নেতাদের মরদেহ দাফনের আগে পবিত্র ইমামদের মাজারে নেওয়া বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।























