ঢাকা ১২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদপুরে মাকে হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার, কলাবাগান থেকে মরদেহ উদ্ধার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:১৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 102

ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় নারীর অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মতলব উত্তর থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (২৫ জুন) সকালে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি কলাবাগান থেকে প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন  দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের মুখে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, লোকেশন বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে মো. জনিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি দাবি করেন, ছোটবেলা থেকে মায়ের প্রতি তার ক্ষোভ ছিল। তার অভিযোগ, মায়ের একাধিক বিয়ের কারণে তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই গত মঙ্গলবার (১৭ জুন) ছেংগারচর বাজার থেকে মাকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দার একটি কলাবাগানে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে তিনি জানিয়েছেন। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন একটি পুকুরে ফেলে দেন বলেও পুলিশ জানায়।

পুলিশ আরও জানায়, জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের আলামত এবং নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লুলেস। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, ঘটনাটি তদন্তে পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আইনের বাইরে রাখা হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

চাঁদপুরে মাকে হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার, কলাবাগান থেকে মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ০৩:১৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় নারীর অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মতলব উত্তর থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার (২৫ জুন) সকালে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি কলাবাগান থেকে প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন  পরকীয়ার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রামবাসীর হাতে আটক

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, লোকেশন বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে মো. জনিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি দাবি করেন, ছোটবেলা থেকে মায়ের প্রতি তার ক্ষোভ ছিল। তার অভিযোগ, মায়ের একাধিক বিয়ের কারণে তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই গত মঙ্গলবার (১৭ জুন) ছেংগারচর বাজার থেকে মাকে অটোরিকশাযোগে কলাকান্দার একটি কলাবাগানে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে তিনি জানিয়েছেন। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন একটি পুকুরে ফেলে দেন বলেও পুলিশ জানায়।

পুলিশ আরও জানায়, জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের আলামত এবং নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লুলেস। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, ঘটনাটি তদন্তে পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আইনের বাইরে রাখা হবে না।