ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু মানুষ, নিহত বেড়ে ১ হাজার ৭১৯

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / 63

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে পৌঁছেছে। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সোমবার, ৩০ জুন রাতে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় বাসিন্দারাও শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় সেখানে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এদিকে সোমবার ভোরে দেশটিতে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হলেও এতে নতুন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  মানুষের জন্ম হয়েছে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য : প্রধান উপদেষ্টা

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই দুর্যোগকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ সদস্য ও সেনাসদস্য কাজ করছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি জীবন রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় অর্জন।

আন্তর্জাতিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে শুরু করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পার হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে উঠছে। এর মধ্যেও সোমবার ভোরে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যা উদ্ধার অভিযানে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। পরবর্তীতে সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়।

বিবিসি আরও জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর রাস্তায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। কারাকাসের পশ্চিমে পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সেখানে খুব কম সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধারকাজে দেখা গেছে। দুর্গত মানুষের জন্য স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের দেওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই অনেক ক্ষেত্রে প্রধান সহায়তা হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু মানুষ, নিহত বেড়ে ১ হাজার ৭১৯

আপডেট সময় ০৯:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে পৌঁছেছে। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সোমবার, ৩০ জুন রাতে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরে স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় বাসিন্দারাও শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় সেখানে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

এদিকে সোমবার ভোরে দেশটিতে ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হলেও এতে নতুন করে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  মার্কিন ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আন্দোলনের ডাক,ট্রাম্পকে সরাতে রাজপথে নামছে লাখো মানুষ

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই দুর্যোগকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ সদস্য ও সেনাসদস্য কাজ করছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি জীবন রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় অর্জন।

আন্তর্জাতিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে শুরু করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পার হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে উঠছে। এর মধ্যেও সোমবার ভোরে ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যা উদ্ধার অভিযানে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। পরবর্তীতে সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়।

বিবিসি আরও জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর রাস্তায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। কারাকাসের পশ্চিমে পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সেখানে খুব কম সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধারকাজে দেখা গেছে। দুর্গত মানুষের জন্য স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের দেওয়া নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই অনেক ক্ষেত্রে প্রধান সহায়তা হয়ে উঠেছে।