মুসলিম ফেরিওয়ালাকে পশ্চিমবঙ্গে কুপিয়ে হত্যা
- আপডেট সময় ০২:৪৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 15
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় আকবর মণ্ডল (৪৭) নামে এক মুসলিম ফেরিওয়ালার হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মুসলিমদের মধ্যে ভীতি ও অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এ ঘটনার সঙ্গে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ জুন পুরুলিয়া জেলার বান্দোয়ান এলাকার সুপুরডিহি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আকবর মণ্ডল ভ্যানে করে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করতেন।
নিহতের ছেলে জুলফিকার দাবি করেন, ঘটনার দিন সকালে তার বাবা পণ্য বিক্রির কাজে বের হন। একপর্যায়ে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
জুলফিকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তার বাবাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। দুপুরের দিকে পুলিশ তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং হাসপাতালে যেতে বলে।
হাসপাতালে গিয়ে বাবার মরদেহ দেখতে পান বলে জানান জুলফিকার। তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় মুসলিম ফেরিওয়ালাদের নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। জুলফিকার অভিযোগ করেন, মুখে দাড়ি থাকার কারণে তাদের জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হতো এবং ফেরি ব্যবসা করতে বাধা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খেলাফত হোসেন মণ্ডলও দাবি করেন, অতীতে এলাকায় এমন সমস্যা না থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বেড়েছে। তিনি বলেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষ শ্রমজীবী এবং জীবিকার প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে কাজ করতে যান।
অন্যদিকে, ১০ জুন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্বনাথ মাহাতোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ির ভেতরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশ সুপার বলেন, হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো বিরোধ বা ঝগড়ার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তদন্তে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।























