মুসলিমদের আক্রান্ত করলে কোনো হিন্দুকে ছাড় দেওয়া হবে না: মুখ্যমন্ত্রী বিজয়
- আপডেট সময় ০৪:৫৭:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
- / 98
তামিলনাড়ুর নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়) রাজ্যের নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করা হলে বা কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার করলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধীর ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের মতে, প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান এবং তা রক্ষা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ—যেকোনো পক্ষের ওপর অন্যায় করা হলে তার ফল হবে ইতিহাসের একটি কঠিন দৃষ্টান্ত। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে তিনি রাজ্যজুড়ে ৭০০-র বেশি মদের দোকান অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ জারি করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং কর্পোরেশন (টাসম্যাক) পরিচালিত ৭১৭টি মদের দোকান দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই দোকানগুলো মূলত বিভিন্ন মন্দির, মসজিদ, গির্জা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনবহুল বাস স্ট্যান্ডের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ধর্মীয় স্থান, স্কুল, কলেজ বা বাস স্ট্যান্ডের ৫০ মিটারের মধ্যে মদের দোকান পরিচালনা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হতে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে ২৭৬টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে, ১৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫টি বাস স্ট্যান্ড এলাকার আশেপাশে অবস্থিত। বর্তমানে রাজ্যে টাসম্যাকের অধীনে ৪ হাজার ৭৬৫টি মদের দোকান রয়েছে। সামাজিক সংস্কারের অংশ হিসেবেই এমন সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বিজয়ের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও একটি বড় অংশ ছিল।
গত রবিবার ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাঁর রাজনৈতিক দল ‘টিভিকে’ (তামিলনাড়ু ভেট্টি কাজাগাম) এবারের নির্বাচনে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী আধিপত্য ভেঙে দিয়ে এক ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে। কংগ্রেস, বামপন্থী দলসমূহ এবং মুসলিম লিগের সমর্থন নিয়ে তামিলনাড়ুর ইতিহাসে প্রথমবার একটি জোট সরকার গঠিত হয়েছে তাঁর নেতৃত্বে।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজয় জনকল্যাণমূলক বেশ কিছু বড় প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রদান এবং মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন অন্যতম। এছাড়া জেলাগুলোতে মাদক বিরোধী বিশেষ ইউনিট গড়ার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন তিনি। যদিও বিপুল সংখ্যক মদের দোকান বন্ধের ফলে রাজ্যের রাজস্ব আয়ে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেক অর্থনীতিবিদ। তা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী সরকারের অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের যে ঘোষণা তিনি দিয়েছেন, তা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা চলছে।




















