ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
স্বামীর জায়গায় ট্রাম্পের নাম বলে ভাইরাল হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সচিব প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩ অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সাক্ষাৎ অপারেশন ক্লিন হার্ট নিয়ে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়ম করলে ছাড় নয়: প্রতিমন্ত্রী তরুণদের প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দিতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পুরো প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে: মমতা সরকারি হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সমন্বিত নীতিমালা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দুই বাংলাদেশির লাশ ফেরাতে সৌদির সহায়তা চাইল বাংলাদেশ গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে সিজেপির দুই নেতা তিহার কারাগারে

ওয়াকফ আইন নিয়ে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর: বাংলায় সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকবে, দিদি আছেন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:১৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 592

ছবি সংগৃহীত

ভারতে সদ্য পাস হওয়া ওয়াকফ বিল নিয়ে মুসলিম সমাজে যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দিলেন আশ্বাস বাংলায় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও সম্পত্তি নিরাপদ থাকবে।

বুধবার (৯ এপ্রিল) ‘নবকার মহামন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, “আমি জানি ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে আপনাদের মনে কষ্ট আছে। কিন্তু দিদি আছেন, দিদি আপনাদের সম্পত্তি রক্ষা করবেন। বাংলায় কোনো বিভাজন হবে না।”

এই আশ্বাস এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াকফ বিল সংসদের দুই কক্ষে পাস হয়ে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরও পেয়েছে। ইতোমধ্যেই এই আইনের গেজেট প্রকাশ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একে “মুসলিম সমাজের স্বার্থে চমৎকার আইন” বলে মন্তব্য করেছেন।

আরও পড়ুন  পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী

কিন্তু মমতা ব্যানার্জি সেই বক্তব্যকে ঘুরিয়ে দিলেন নতুন বার্তা দিয়ে—“কেউ রাজনৈতিক উসকানিতে পা দেবেন না। বাংলায় আমরা একসঙ্গে বাস করি, একসঙ্গে বাঁচি। সবাই মিলে কথা বলুন, মিলে চলুন। জিও, জিনে দো।”

তিনি আরও বলেন, “কিছু মানুষ রাজনীতির জন্য বিভাজনের বাতাবরণ তৈরি করতে চায়। কিন্তু আমি বলছি, বাংলায় কোনো উসকানিমূলক কাজ চলবে না। সম্প্রীতির রাজ্য বাংলায় কোনো সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বা অধিকার হরণ হবে না।”

উল্লেখ্য, ওয়াকফ হলো মুসলিম সমাজে একটি ধর্মীয় ও দাতব্য সম্পত্তি ব্যবস্থা, যা মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা, আশ্রয়কেন্দ্র বা জমির আকারে থাকে। এই সম্পত্তি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য দান করা হয় এবং ব্যক্তিগত মালিকানায় ফেরত যায় না বা বিক্রি করা যায় না।

বিলটির বিরোধিতায় ইতোমধ্যে অন্তত চারটি পিটিশন সুপ্রিম কোর্টে দাখিল হয়েছে। এআইএমআইএম, কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি ও আরজেডি-র মতো দল এবং একটি সিভিল রাইটস সংগঠন দাবি করেছে—এই আইন সংবিধানবিরোধী ও সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।

দেশজুড়ে যখন এই আইন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন পশ্চিমবঙ্গে মমতার এই বার্তা—ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছে রাজ্যের মুসলিমদের কাছে। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্ট এই বিলের চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ওয়াকফ আইন নিয়ে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর: বাংলায় সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকবে, দিদি আছেন

আপডেট সময় ০৮:১৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫

ভারতে সদ্য পাস হওয়া ওয়াকফ বিল নিয়ে মুসলিম সমাজে যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দিলেন আশ্বাস বাংলায় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও সম্পত্তি নিরাপদ থাকবে।

বুধবার (৯ এপ্রিল) ‘নবকার মহামন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, “আমি জানি ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে আপনাদের মনে কষ্ট আছে। কিন্তু দিদি আছেন, দিদি আপনাদের সম্পত্তি রক্ষা করবেন। বাংলায় কোনো বিভাজন হবে না।”

এই আশ্বাস এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াকফ বিল সংসদের দুই কক্ষে পাস হয়ে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরও পেয়েছে। ইতোমধ্যেই এই আইনের গেজেট প্রকাশ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একে “মুসলিম সমাজের স্বার্থে চমৎকার আইন” বলে মন্তব্য করেছেন।

আরও পড়ুন  মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য করিডর প্রস্তাব

কিন্তু মমতা ব্যানার্জি সেই বক্তব্যকে ঘুরিয়ে দিলেন নতুন বার্তা দিয়ে—“কেউ রাজনৈতিক উসকানিতে পা দেবেন না। বাংলায় আমরা একসঙ্গে বাস করি, একসঙ্গে বাঁচি। সবাই মিলে কথা বলুন, মিলে চলুন। জিও, জিনে দো।”

তিনি আরও বলেন, “কিছু মানুষ রাজনীতির জন্য বিভাজনের বাতাবরণ তৈরি করতে চায়। কিন্তু আমি বলছি, বাংলায় কোনো উসকানিমূলক কাজ চলবে না। সম্প্রীতির রাজ্য বাংলায় কোনো সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বা অধিকার হরণ হবে না।”

উল্লেখ্য, ওয়াকফ হলো মুসলিম সমাজে একটি ধর্মীয় ও দাতব্য সম্পত্তি ব্যবস্থা, যা মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা, আশ্রয়কেন্দ্র বা জমির আকারে থাকে। এই সম্পত্তি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য দান করা হয় এবং ব্যক্তিগত মালিকানায় ফেরত যায় না বা বিক্রি করা যায় না।

বিলটির বিরোধিতায় ইতোমধ্যে অন্তত চারটি পিটিশন সুপ্রিম কোর্টে দাখিল হয়েছে। এআইএমআইএম, কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি ও আরজেডি-র মতো দল এবং একটি সিভিল রাইটস সংগঠন দাবি করেছে—এই আইন সংবিধানবিরোধী ও সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।

দেশজুড়ে যখন এই আইন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন পশ্চিমবঙ্গে মমতার এই বার্তা—ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছে রাজ্যের মুসলিমদের কাছে। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্ট এই বিলের চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দেয়।