ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

ভারত ও চীনারা শুধু সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 147

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও অভিবাসন ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর ও বিতর্কিত অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি রাজনৈতিক ভাষ্যকার মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে ভারত ও চীনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার উদ্দেশ্য নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। ওই পডকাস্টে দাবি করা হয়েছে, এই দুটি দেশের নাগরিকরা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব লাভের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। ‘স্যাভেজ নেশন’ নামক ওই অনুষ্ঠানে ভারত ও চীনকে অত্যন্ত নেতিবাচক বিশেষণে অভিহিত করার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকত্ব আইনের সংস্কার নিয়ে দাবি তোলা হয়েছে।

রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজ অভিযোগ করেছেন, ভারত ও চীনের গর্ভবতী নারীরা গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান যাতে তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়। এর মাধ্যমে তারা পরবর্তী সময়ে তাদের পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার সুযোগ পায় বলে পডকাস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অভিবাসীদের নিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে তিনি দাবি করেন, উচ্চ-প্রযুক্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোতে শ্বেতাঙ্গদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, কারণ ওইসব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু জাতিগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

এই বিতর্কিত প্রচারণায় মার্কিন সংবিধানের প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পডকাস্টে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান বিমান চলাচলের যুগে পুরোনো নাগরিকত্ব আইন কার্যকর রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়। এই পরিস্থিতিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি আদালতের ওপর ছেড়ে না দিয়ে জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন স্যাভেজ। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পোস্টটি এমন এক সময়ে শেয়ার করলেন, যার ঠিক এক দিন আগেই তিনি দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই দাবিটি তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্য চুক্তির পথে বড় অগ্রগতি, আজ শুরু হচ্ছে আলোচনা

বাস্তব চিত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্বের অন্তত ৩৬টি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান চালু রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডা ও মেক্সিকোসহ দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশ অন্তর্ভুক্ত। ট্রাম্পের এই উস্কানিমূলক পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনে এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ট্রাম্প পুনরায় অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন এবং জনমতকে প্রভাবিত করতে এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারত ও চীনারা শুধু সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৬:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও অভিবাসন ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর ও বিতর্কিত অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি রাজনৈতিক ভাষ্যকার মাইকেল স্যাভেজের একটি পডকাস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে ভারত ও চীনের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার উদ্দেশ্য নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। ওই পডকাস্টে দাবি করা হয়েছে, এই দুটি দেশের নাগরিকরা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব লাভের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। ‘স্যাভেজ নেশন’ নামক ওই অনুষ্ঠানে ভারত ও চীনকে অত্যন্ত নেতিবাচক বিশেষণে অভিহিত করার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকত্ব আইনের সংস্কার নিয়ে দাবি তোলা হয়েছে।

রেডিও উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজ অভিযোগ করেছেন, ভারত ও চীনের গর্ভবতী নারীরা গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান যাতে তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়। এর মাধ্যমে তারা পরবর্তী সময়ে তাদের পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার সুযোগ পায় বলে পডকাস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অভিবাসীদের নিয়ে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে তিনি দাবি করেন, উচ্চ-প্রযুক্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোতে শ্বেতাঙ্গদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে, কারণ ওইসব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু জাতিগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

এই বিতর্কিত প্রচারণায় মার্কিন সংবিধানের প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পডকাস্টে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান বিমান চলাচলের যুগে পুরোনো নাগরিকত্ব আইন কার্যকর রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়। এই পরিস্থিতিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি আদালতের ওপর ছেড়ে না দিয়ে জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন স্যাভেজ। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পোস্টটি এমন এক সময়ে শেয়ার করলেন, যার ঠিক এক দিন আগেই তিনি দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের আর কোনো দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই দাবিটি তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।

আরও পড়ুন  পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ: ইসরায়েলের দখলদারিত্ব আরও বাড়ছে

বাস্তব চিত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্বের অন্তত ৩৬টি দেশে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান চালু রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কানাডা ও মেক্সিকোসহ দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ দেশ অন্তর্ভুক্ত। ট্রাম্পের এই উস্কানিমূলক পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনে এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ট্রাম্প পুনরায় অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন এবং জনমতকে প্রভাবিত করতে এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন।