মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে পাকিস্তানের দৌড়ঝাঁপ, ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে চাঞ্চল্য
- আপডেট সময় ০১:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 12
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে গত রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি যুদ্ধবিরতির সময়সীমা অতিবাহিত হওয়ার পরেও তা বহাল থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ ও অবরোধের যে অস্থিরতা চলছে, তা নিরসনে পাকিস্তান শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতা করতে চাইলেও শেষ মুহূর্তে এক ধরনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের বর্তমান পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য আলোচনার স্থান হিসেবে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বড় হোটেলগুলো অতিথিদের অপেক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় শহরজুড়ে এক ধরনের হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার যে প্রস্তুতি বা সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানের অবতরণ নিয়ে যে জল্পনা ছিল, তা বর্তমানে স্তিমিত হয়ে পড়েছে। এতে করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা করানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের যে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তৈরির সুযোগ ছিল, তা আপাতত অনিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি প্রতিকূল হলেও পাকিস্তান হাল ছাড়তে নারাজ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, সংঘাতের আলোচনাভিত্তিক সমাধানের জন্য পাকিস্তান তার আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজা চার্লসের আসন্ন রাষ্ট্রীয় সফর এবং চীনের গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগে ট্রাম্প হয়তো দ্রুত ইরান ইস্যুটি তালিকা থেকে বাদ দিতে চাইছেন।
ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার টেবিলে আসার ব্যাপারে কিছুটা অনীহা দেখা গেছে। তেহরান অভিযোগ করেছে যে, ওয়াশিংটন পূর্বের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে বিরোধপূর্ণ আচরণ করছে। ইরানের দাবি, এর আগের দুটি বৈঠকের সময়ও তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে ট্রাম্পের সময় দেওয়ার ইঙ্গিতটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত শাসনব্যবস্থা নতুন করে কোনো আকাশপথের হামলার ঝুঁকি নেবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ছিল তুলনামূলক সংযত। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পুরোনো নেতৃত্বের একটি বড় অংশ সরে যাওয়ার পর বর্তমানে দেশটিতে প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী কারা, তা নিয়ে খোদ ওয়াশিংটনেই বিভ্রান্তি থাকতে পারে। এই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
























