পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্প কে: পেজেশকিয়ান
- আপডেট সময় ০৪:৩৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 22
ইরানের পারমাণবিক অধিকার থেকে দেশটিকে বঞ্চিত করার কোনো এখতিয়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) পারমাণবিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে এক ভাষণে তিনি এই হুশিয়ারি দেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “ট্রাম্প বলছেন ইরান তার পারমাণবিক অধিকার ভোগ করতে পারবে না, কিন্তু ঠিক কী অপরাধের জন্য একটি জাতিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে—তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। একটি স্বাধীন জাতির অধিকার কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্প কে?”
অন্যদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনার সামান্য অগ্রগতি হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও অনেক দূরে। শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না।
গালিবাফ মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণার’ অভিযোগ এনে বলেন, আলোচনার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র এই ‘তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ শুরু করেছে। তিনি দাবি করেন, অতীতেও কমান্ডারদের হত্যার মাধ্যমে সংঘাত উসকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রের মাধ্যমে আসা প্রস্তাবগুলো ইরানের উচ্চতর নিরাপত্তা পরিষদ বর্তমানে পর্যালোচনা করছে। তবে চাপের মুখে ইরান নতি স্বীকার করবে না এবং যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তেহরান সতর্ক রয়েছে।
স্পিকার গালিবাফ জানান, মার্কিন সামরিক কৌশলের ব্যর্থতার কারণেই ট্রাম্প এখন পরোক্ষ বার্তার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছেন। তবে ইরান তার ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখার বিষয়ে অনড়। যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননের হিজবুল্লাহর স্বার্থ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এটিই তেহরানের মূল শর্ত।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।
























