ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা

ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে: বিশ্বব্যাংক প্রধান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 105

ছবি সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘ধারাবাহিক বা ক্যাসকেডিং প্রভাব’ ফেলবে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অজয় বাঙ্গা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর যদি যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হয় এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে ক্ষতির মাত্রা আরও অনেক বেশি হবে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ অনুমোদন

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ধরে নেওয়া হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৩ থেকে ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ক্ষতি বেড়ে ১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়া মূল্যস্ফীতিও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এটি ২০০ থেকে ৩০০ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে, আর খারাপ পরিস্থিতিতে তা প্রায় ০ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জন্য উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৪ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে এই হার কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

অন্যদিকে, এসব দেশে মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা আগের পূর্বাভাস ছিল ৩ শতাংশ। চরম পরিস্থিতিতে এটি বেড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এদিকে আজ যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচিকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, এই আলোচনায় কোনো বিকল্প পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই এবং মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।

ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে উড়োজাহাজে ওঠার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় যোগ দিতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে কী বার্তা দিয়েছেন- এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে শুভকামনা জানিয়েছি।’

ইরানের সঙ্গে আলোচনা এক দফাতেই শেষ হবে নাকি আরও দীর্ঘমেয়াদি হবে- এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলেও জানান তিনি। বিকল্প কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের কোনো ব্যাকআপ পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই।’

একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ‘একটি ভালো চুক্তি মানে-ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার মতে ইরানে ইতোমধ্যে এক ধরনের ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটেছে।

এ সময় ট্রাম্প আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটির প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরান টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমনটা হতে দেব না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে: বিশ্বব্যাংক প্রধান

আপডেট সময় ০৬:০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘ধারাবাহিক বা ক্যাসকেডিং প্রভাব’ ফেলবে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অজয় বাঙ্গা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর যদি যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হয় এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে ক্ষতির মাত্রা আরও অনেক বেশি হবে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচিতে দৃঢ় সমর্থন দেবে বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ধরে নেওয়া হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৩ থেকে ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ক্ষতি বেড়ে ১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়া মূল্যস্ফীতিও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এটি ২০০ থেকে ৩০০ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে, আর খারাপ পরিস্থিতিতে তা প্রায় ০ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জন্য উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৪ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে এই হার কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

অন্যদিকে, এসব দেশে মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা আগের পূর্বাভাস ছিল ৩ শতাংশ। চরম পরিস্থিতিতে এটি বেড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এদিকে আজ যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচিকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, এই আলোচনায় কোনো বিকল্প পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই এবং মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।

ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে উড়োজাহাজে ওঠার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় যোগ দিতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে কী বার্তা দিয়েছেন- এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে শুভকামনা জানিয়েছি।’

ইরানের সঙ্গে আলোচনা এক দফাতেই শেষ হবে নাকি আরও দীর্ঘমেয়াদি হবে- এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলেও জানান তিনি। বিকল্প কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের কোনো ব্যাকআপ পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই।’

একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ‘একটি ভালো চুক্তি মানে-ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার মতে ইরানে ইতোমধ্যে এক ধরনের ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটেছে।

এ সময় ট্রাম্প আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটির প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরান টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমনটা হতে দেব না।’