ঢাকা ১২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
খোকা ছিলেন রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা: মির্জা আব্বাস শিল্প বাঁচলে মজুরি বাড়বে, অহেতুক প্ররোচনায় না পড়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রম মন্ত্রীর মেগা প্রকল্প নয়, জনগণের প্রয়োজনই অগ্রাধিকার: প্রতিমন্ত্রী ফুটবলে নজিরবিহীন ঘটনা: এক ম্যাচে ৫১ লাল কার্ড, ছাড়িয়ে গেল আগের রেকর্ড কাল থেকে সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী তিন জাহাজ মান ও শর্ত পূরণ ছাড়া মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রীর বৈঠক ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৮৬৬ হাম উপসর্গে ৬ জনের মৃত্যু

গাজার পানির লাইনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৬ শিশুসহ নিহত ১০

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / 757

ছবি সংগৃহীত

 

 

গাজার মধ্যাঞ্চলে একটি পানির ট্যাংকার থেকে পানি সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষের ওপর ইসরায়েলের চালানো ড্রোন হামলায় ছয় শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। রোববারের এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার জরুরি পরিষেবা সংস্থা।

আরও পড়ুন  সাইবার সিকিউরিটিখাতে এ বছরের সবচেয়ে বড় ডিল - ইসরায়েলি কোম্পানি বিক্রি হচ্ছে ২৫ বিলিয়ন ডলারে

নিহতদের মরদেহ নুসিরাতের আল আওদা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আরও ১৬ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের একজন চিকিৎসক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আল-নুসিরাত শরণার্থী শিবিরের কেন্দ্রস্থলে পানি সংগ্রহে আসা সাধারণ মানুষের একটি লাইনের ওপর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে একটি ড্রোন। হামলার সময় সবার হাতে খালি জেরিক্যান ছিল। একটি অনলাইন ভিডিওতে দেখা যায়, আতঙ্কে ছুটোছুটি, শিশুর কান্না, রক্তাক্ত দেহ এবং লাশ পড়ে আছে রাস্তায়। আহতদের স্থানীয়রা নিজেদের গাড়ি ও গাধার গাড়িতে করে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যান।

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের বিমান হামলা সম্প্রতি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই হামলা চালানো হয়েছে। একই দিনে গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, গাজার সিটি ও মধ্য গাজায় তিনটি আবাসিক ভবনে চালানো পৃথক হামলায় আরও ১৯ জন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েল গত বছর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সীমান্তে চালানো হামলার জবাবে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫৭ হাজার ৮৮২ জন মানুষ, এমন তথ্য দিয়েছে হামাস-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

চলমান সংঘাতে গাজার অধিকাংশ মানুষ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ৯০ শতাংশেরও বেশি বাড়িঘর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ধসে পড়েছে। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের চরম সংকট চলছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ১৩০ দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো গাজায় ৭৫ হাজার লিটার জ্বালানি প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিমাণ জ্বালানি সেখানে থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীর ন্যূনতম চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

শনিবার জাতিসংঘের অধীনে থাকা ৯টি সংস্থা সতর্ক করে জানায়, গাজায় জ্বালানি সংকট ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও বেকারির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই অনেক হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে গেছে। নবজাতক, প্রসূতি ও আইসিইউ রোগীরা চরম বিপদে আছেন। অ্যাম্বুল্যান্স চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজার পানির লাইনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৬ শিশুসহ নিহত ১০

আপডেট সময় ০৫:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

 

 

গাজার মধ্যাঞ্চলে একটি পানির ট্যাংকার থেকে পানি সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষের ওপর ইসরায়েলের চালানো ড্রোন হামলায় ছয় শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। রোববারের এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজার জরুরি পরিষেবা সংস্থা।

আরও পড়ুন  গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলা, একদিনে নিহত দেড় শতাধিক ফিলিস্তিনি

নিহতদের মরদেহ নুসিরাতের আল আওদা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আরও ১৬ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের একজন চিকিৎসক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আল-নুসিরাত শরণার্থী শিবিরের কেন্দ্রস্থলে পানি সংগ্রহে আসা সাধারণ মানুষের একটি লাইনের ওপর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে একটি ড্রোন। হামলার সময় সবার হাতে খালি জেরিক্যান ছিল। একটি অনলাইন ভিডিওতে দেখা যায়, আতঙ্কে ছুটোছুটি, শিশুর কান্না, রক্তাক্ত দেহ এবং লাশ পড়ে আছে রাস্তায়। আহতদের স্থানীয়রা নিজেদের গাড়ি ও গাধার গাড়িতে করে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যান।

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের বিমান হামলা সম্প্রতি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই হামলা চালানো হয়েছে। একই দিনে গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, গাজার সিটি ও মধ্য গাজায় তিনটি আবাসিক ভবনে চালানো পৃথক হামলায় আরও ১৯ জন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েল গত বছর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সীমান্তে চালানো হামলার জবাবে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫৭ হাজার ৮৮২ জন মানুষ, এমন তথ্য দিয়েছে হামাস-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

চলমান সংঘাতে গাজার অধিকাংশ মানুষ একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ৯০ শতাংশেরও বেশি বাড়িঘর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ধসে পড়েছে। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের চরম সংকট চলছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ১৩০ দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো গাজায় ৭৫ হাজার লিটার জ্বালানি প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিমাণ জ্বালানি সেখানে থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীর ন্যূনতম চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

শনিবার জাতিসংঘের অধীনে থাকা ৯টি সংস্থা সতর্ক করে জানায়, গাজায় জ্বালানি সংকট ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে হাসপাতাল, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও বেকারির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই অনেক হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে গেছে। নবজাতক, প্রসূতি ও আইসিইউ রোগীরা চরম বিপদে আছেন। অ্যাম্বুল্যান্স চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি