ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানালেন যুবরাজ বিন সালমান ত্রুটি-বিচ্যুতি খুঁজে বের করুন, শুধু ভিউর জন্য সমালোচনা নয়: সেতুমন্ত্রী বদলে গেল এয়ারটেলের নাম, নতুন পরিচয় ‘সার্কেল’ এ বছরের মধ্যেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী ৬ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ভারতীয় ৪৫৯৬ নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে, তবে জনপ্রত্যাশা পূরণ হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী “ট্রেন কেড়ে নিয়েছিল দুই পা, হার মানাতে পারেনি মানিক মিয়াকে” সন্ধ্যার মধ্যে ১০ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস পে-স্কেলসহ ছয় মাসের কর্মকাণ্ড জানালেন মাহদী আমিন মানবতাবিরোধী অপরাধের মা*ম*লায় তিন সাংবাদিককে আসামি করা হচ্ছে

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় নিহত ১১০ ফিলিস্তিনি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • / 602

ছবি সংগৃহীত

 

 

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় অন্তত ১১০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু রাফাহতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৪ জন, যারা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর সামনে খাদ্য সহায়তার লাইনে অপেক্ষা করছিলেন।

আরও পড়ুন  গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডের পর কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অচল হয়ে পড়ে এবং গাজার জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাফাহর আল-শাকুশ এলাকায় আক্রমণ থেকে বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায় সরাসরি খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ মানুষের ওপর।

এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি সামির শাআত বলেন, “সেই জায়গায় ছিল রক্তের সাগর। মানুষ শুধু একমুঠো খাবারের আশায় এসেছিল, অথচ সেই খাবারের ব্যাগই এখন তাদের কাফনের কাপড় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম, এটি ছিল এক ভয়াবহ মৃত্যুকূপ।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এক শহীদ বন্ধুকে কাঁধে করে নিয়ে হাঁটছিলাম। চারপাশে শুধু লাশ আর আর্তনাদ।”

এ ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ বারবাখ জানান, “ইসরায়েলি স্নাইপাররা ঠাণ্ডা মাথায় আমাদের গুলি করেছে। তারা আমাদের প্রতারণা করে বলেছিল সাহায্য নিতে আসতে। কিন্তু আমরা ব্যাগ নিয়ে গেলে আমাদের হাঁস-মুরগির মতো গুলি করে মেরে ফেলে।”

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন রাফাহর এই সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে অভিহিত করেছে ‘মানব হত্যাকেন্দ্র’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মানবিক সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর এমন ভয়াবহ হামলা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি এক নির্মম গণহত্যার দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় নিহত ১১০ ফিলিস্তিনি

আপডেট সময় ১০:০৯:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

 

 

গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় অন্তত ১১০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে শুধু রাফাহতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৪ জন, যারা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর সামনে খাদ্য সহায়তার লাইনে অপেক্ষা করছিলেন।

আরও পড়ুন  মিসরে ভিন্ন আমেজে এবারের রমজান উদযাপন, এবার শুধু উপবাস নয়, সংহতিরও প্রতীক

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডের পর কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা অচল হয়ে পড়ে এবং গাজার জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

রাফাহর আল-শাকুশ এলাকায় আক্রমণ থেকে বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালায় সরাসরি খাদ্য সহায়তার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ মানুষের ওপর।

এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি সামির শাআত বলেন, “সেই জায়গায় ছিল রক্তের সাগর। মানুষ শুধু একমুঠো খাবারের আশায় এসেছিল, অথচ সেই খাবারের ব্যাগই এখন তাদের কাফনের কাপড় হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম, এটি ছিল এক ভয়াবহ মৃত্যুকূপ।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এক শহীদ বন্ধুকে কাঁধে করে নিয়ে হাঁটছিলাম। চারপাশে শুধু লাশ আর আর্তনাদ।”

এ ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ বারবাখ জানান, “ইসরায়েলি স্নাইপাররা ঠাণ্ডা মাথায় আমাদের গুলি করেছে। তারা আমাদের প্রতারণা করে বলেছিল সাহায্য নিতে আসতে। কিন্তু আমরা ব্যাগ নিয়ে গেলে আমাদের হাঁস-মুরগির মতো গুলি করে মেরে ফেলে।”

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন রাফাহর এই সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে অভিহিত করেছে ‘মানব হত্যাকেন্দ্র’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে।

গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মানবিক সহায়তার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর এমন ভয়াবহ হামলা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি এক নির্মম গণহত্যার দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।