০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
শিরোনাম :
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হচ্ছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচন করবেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম থাই–কাম্বোডিয়া সীমান্তে পুনরায় উত্তেজনা: অস্ত্রবিরতি ভেঙে বিমান হামলা, নিহত ১ সৈন্য ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দল জার্মান সেনাবাহিনী বাড়ছে: ২০৩৫ সালের মধ্যে ২,৬০,০০০ সক্রিয় সদস্যের লক্ষ্য অনুমোদন মধ্যপ্রাচ্যের কঠিনতম পানি প্রকল্প সম্পন্ন করল ইরান ফিনল্যান্ডে ডাটা সেন্টারের নির্গত  তাপে গরম হচ্ছে পুরো শহর চীন কোয়ান্টাম কম্পিউটারে সফলতা পেলে যুক্তরাষ্ট্রকে এক নিমেষে প্রস্তরযুগে পাঠিয়ে দেবে যুক্তরাষ্ট্রের F-35 যুদ্ধবিমান প্রকল্পে ফিরে আসার বিষয়ে আরো একধাপ এগিয়ে গেল তুরস্ক: এমনটাই জানিয়েছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক। ফিফার শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হলেন ট্রাম্প

ভারতের মণিপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে কুকি জনগোষ্ঠীর ৪ জন নিহত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • / 106

ছবি সংগৃহীত

 

মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলায় কুকি অধ্যুষিত এলাকায় ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কেঁপে উঠেছে জনপদ। গতকাল সোমবার সেখানে কুকি ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)-এর উপপ্রধান থেনখোথাং হাওকিপসহ চারজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, একটি হুন্দাই গাড়ির ভেতর তিনজনের গুলিবিদ্ধ দেহ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কাছাকাছি এলাকায় ৭২ বছরের এক নারীর মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়।

মণিপুর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে হাওকিপ ছাড়াও কেএনএর দুই সদস্য সেইখোগিন (৩৫) ও লেঙ্গোহাও (৩৫) রয়েছেন। নিহত নারী ফলহিং (৭২), স্থানীয় কোয়েট গ্রামের বাসিন্দা। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ঘটনার সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং হঠাৎ গুলিতে প্রাণ হারান।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে হাওকিপ ও তাঁর দুই সঙ্গী মাতেজাং থেকে গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। পথে মংজ্যাং গ্রামে দুর্বৃত্তরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

থেনখোথাং হাওকিপ ছিলেন কেএনএর উপপ্রধান, যার নেতৃত্বাধীন কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (কেএনও) ২০০৭-০৮ সালে ভারতের কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতিতে সম্মত হয়। তবে কেএনও-র প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি (ইউ-কেএনএ) এই চুক্তি মেনে নেয়নি। ইউ-কেএনএর অভিযোগ, কেএনও সরকারি সহযোগিতায় তাদের উপর বারবার হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের দাবি, হাওকিপ ও তাঁর অনুসারীরা ইউ-কেএনএর অন্তত ৩০ জন সদস্যকে হত্যা করেছেন, যার মধ্যে শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন।

ইউ-কেএনএ এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে, প্রতিশোধ হিসেবেই হাওকিপসহ কেএনএর তিন সদস্যকে তারা হত্যা করেছে।

দুই বছর ধরে মণিপুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা চলছে। বিশেষ করে চূড়াচাঁদপুরে সহিংসতার মাত্রা অনেক বেশি। এ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ২৫০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য, দুই বিদ্রোহী কুকি গোষ্ঠীর নতুন করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। চূড়াচাঁদপুরের মতো স্পর্শকাতর জেলায় সহিংসতা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চালানো হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের মণিপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে কুকি জনগোষ্ঠীর ৪ জন নিহত

আপডেট সময় ০৫:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

 

মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলায় কুকি অধ্যুষিত এলাকায় ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কেঁপে উঠেছে জনপদ। গতকাল সোমবার সেখানে কুকি ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)-এর উপপ্রধান থেনখোথাং হাওকিপসহ চারজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, একটি হুন্দাই গাড়ির ভেতর তিনজনের গুলিবিদ্ধ দেহ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কাছাকাছি এলাকায় ৭২ বছরের এক নারীর মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়।

মণিপুর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে হাওকিপ ছাড়াও কেএনএর দুই সদস্য সেইখোগিন (৩৫) ও লেঙ্গোহাও (৩৫) রয়েছেন। নিহত নারী ফলহিং (৭২), স্থানীয় কোয়েট গ্রামের বাসিন্দা। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ঘটনার সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং হঠাৎ গুলিতে প্রাণ হারান।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার দুপুরে হাওকিপ ও তাঁর দুই সঙ্গী মাতেজাং থেকে গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। পথে মংজ্যাং গ্রামে দুর্বৃত্তরা তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

থেনখোথাং হাওকিপ ছিলেন কেএনএর উপপ্রধান, যার নেতৃত্বাধীন কুকি ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (কেএনও) ২০০৭-০৮ সালে ভারতের কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতিতে সম্মত হয়। তবে কেএনও-র প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি (ইউ-কেএনএ) এই চুক্তি মেনে নেয়নি। ইউ-কেএনএর অভিযোগ, কেএনও সরকারি সহযোগিতায় তাদের উপর বারবার হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের দাবি, হাওকিপ ও তাঁর অনুসারীরা ইউ-কেএনএর অন্তত ৩০ জন সদস্যকে হত্যা করেছেন, যার মধ্যে শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন।

ইউ-কেএনএ এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছে, প্রতিশোধ হিসেবেই হাওকিপসহ কেএনএর তিন সদস্যকে তারা হত্যা করেছে।

দুই বছর ধরে মণিপুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা চলছে। বিশেষ করে চূড়াচাঁদপুরে সহিংসতার মাত্রা অনেক বেশি। এ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ২৫০ জনের বেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য, দুই বিদ্রোহী কুকি গোষ্ঠীর নতুন করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। চূড়াচাঁদপুরের মতো স্পর্শকাতর জেলায় সহিংসতা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চালানো হচ্ছে।