ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

আসামে একদিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত, ভাঙল ১৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
  • / 235

ছবি সংগৃহীত

 

ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচরে জুন মাসের প্রথম দিনেই একদিনে ৪১৫.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। গত রবিবারের এ বৃষ্টিপাত ১৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ১৮৯৩ সালে শহরটিতে একদিনে সর্বোচ্চ ২৯০.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এবারের বৃষ্টিপাত সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। খবর এনডিটিভি।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণি প্রবাহ এবং নিম্নস্তরের একটি ট্রফের সংমিশ্রণের কারণে এই অতিবর্ষণ হয়েছে। উত্তর প্রদেশ থেকে বিস্তৃত একটি আবহাওয়াজনিত ট্রফ বর্তমানে আসামের মধ্যাঞ্চল থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলে বৈরি আবহাওয়া দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  ভারতে বাড়ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ, চার দিনে আক্রান্ত ১৭শ'র বেশি

শিলচর শহরটি অতীতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২২ সালে বরাক নদীর বেথকুণ্ডি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে গিয়েছিল। এবারের অতিবৃষ্টির ফলে স্থানীয়রা আবারও দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, ত্রিপুরা, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ এবং মিজোরামে টানা তিন দিন ধরে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এই প্রবল বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস দেখা দিয়েছে এবং নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা। এখন পর্যন্ত এসব রাজ্যে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

প্রবল বর্ষণের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস থেকে আরও কয়েকদিন ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি সংস্থাগুলো সকলকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং পাহাড়ি ও নদীসংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের এই মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রতিবছরই বিভিন্ন রকম দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আসামে একদিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত, ভাঙল ১৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড

আপডেট সময় ১১:১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

 

ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচরে জুন মাসের প্রথম দিনেই একদিনে ৪১৫.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। গত রবিবারের এ বৃষ্টিপাত ১৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ১৮৯৩ সালে শহরটিতে একদিনে সর্বোচ্চ ২৯০.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এবারের বৃষ্টিপাত সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। খবর এনডিটিভি।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণি প্রবাহ এবং নিম্নস্তরের একটি ট্রফের সংমিশ্রণের কারণে এই অতিবর্ষণ হয়েছে। উত্তর প্রদেশ থেকে বিস্তৃত একটি আবহাওয়াজনিত ট্রফ বর্তমানে আসামের মধ্যাঞ্চল থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলে বৈরি আবহাওয়া দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  ‘অপারেশন সিসা প্রাচীর’ শুরু , ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন ভারত

শিলচর শহরটি অতীতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২২ সালে বরাক নদীর বেথকুণ্ডি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে গিয়েছিল। এবারের অতিবৃষ্টির ফলে স্থানীয়রা আবারও দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, ত্রিপুরা, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ এবং মিজোরামে টানা তিন দিন ধরে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এই প্রবল বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস দেখা দিয়েছে এবং নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা। এখন পর্যন্ত এসব রাজ্যে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

প্রবল বর্ষণের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস থেকে আরও কয়েকদিন ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি সংস্থাগুলো সকলকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং পাহাড়ি ও নদীসংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের এই মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রতিবছরই বিভিন্ন রকম দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।