ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

আসামে একদিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত, ভাঙল ১৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
  • / 443

ছবি সংগৃহীত

 

ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচরে জুন মাসের প্রথম দিনেই একদিনে ৪১৫.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। গত রবিবারের এ বৃষ্টিপাত ১৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ১৮৯৩ সালে শহরটিতে একদিনে সর্বোচ্চ ২৯০.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এবারের বৃষ্টিপাত সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। খবর এনডিটিভি।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণি প্রবাহ এবং নিম্নস্তরের একটি ট্রফের সংমিশ্রণের কারণে এই অতিবর্ষণ হয়েছে। উত্তর প্রদেশ থেকে বিস্তৃত একটি আবহাওয়াজনিত ট্রফ বর্তমানে আসামের মধ্যাঞ্চল থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলে বৈরি আবহাওয়া দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  ভবেশ রায় ইস্যুতে ভারতের দাবি অসত্য ও ভিত্তিহীন: প্রেসসচিব

শিলচর শহরটি অতীতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২২ সালে বরাক নদীর বেথকুণ্ডি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে গিয়েছিল। এবারের অতিবৃষ্টির ফলে স্থানীয়রা আবারও দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, ত্রিপুরা, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ এবং মিজোরামে টানা তিন দিন ধরে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এই প্রবল বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস দেখা দিয়েছে এবং নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা। এখন পর্যন্ত এসব রাজ্যে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

প্রবল বর্ষণের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস থেকে আরও কয়েকদিন ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি সংস্থাগুলো সকলকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং পাহাড়ি ও নদীসংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের এই মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রতিবছরই বিভিন্ন রকম দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আসামে একদিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত, ভাঙল ১৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড

আপডেট সময় ১১:১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

 

ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচরে জুন মাসের প্রথম দিনেই একদিনে ৪১৫.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। গত রবিবারের এ বৃষ্টিপাত ১৩২ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ১৮৯৩ সালে শহরটিতে একদিনে সর্বোচ্চ ২৯০.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এবারের বৃষ্টিপাত সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। খবর এনডিটিভি।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণি প্রবাহ এবং নিম্নস্তরের একটি ট্রফের সংমিশ্রণের কারণে এই অতিবর্ষণ হয়েছে। উত্তর প্রদেশ থেকে বিস্তৃত একটি আবহাওয়াজনিত ট্রফ বর্তমানে আসামের মধ্যাঞ্চল থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলে বৈরি আবহাওয়া দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন  কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর গুলি, নিহত অন্তত ২৪

শিলচর শহরটি অতীতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২২ সালে বরাক নদীর বেথকুণ্ডি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর শহরটির প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে গিয়েছিল। এবারের অতিবৃষ্টির ফলে স্থানীয়রা আবারও দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, ত্রিপুরা, সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ এবং মিজোরামে টানা তিন দিন ধরে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এই প্রবল বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভূমিধস দেখা দিয়েছে এবং নিম্নাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা। এখন পর্যন্ত এসব রাজ্যে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

প্রবল বর্ষণের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস থেকে আরও কয়েকদিন ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি সংস্থাগুলো সকলকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং পাহাড়ি ও নদীসংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের এই মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রতিবছরই বিভিন্ন রকম দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।