ঢাকা ০৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে

আবারও রোমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা, সমঝোতায় অনিশ্চয়তা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
  • / 439

ছবি সংগৃহীত

 

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে বহুদিনের বিরোধ মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা ফের আলোচনায় বসেছেন। গতকাল শুক্রবার ইতালির রোমে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা মধ্যস্থতা করছে ওমান। খবর সিএনএন ও এবিসি নিউজের।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এটি ছিল পঞ্চম দফা আলোচনা।

আরও পড়ুন  ইরানে নতুন কোনো মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন ল্যাভরভ

তবে, আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বিরোধপূর্ণ শর্ত’ থাকায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তারা এমন একটি চুক্তি চান যেখানে ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। তার ভাষায়, “এটা সহজ হবে না।”

দুই পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী হলেও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন না করুক, যা গোটা অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান চায় তাদের তেলনির্ভর অর্থনীতির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক।

তেহরান জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কিছু সীমাবদ্ধতা মানতে প্রস্তুত, তবে ওয়াশিংটনকে পরিষ্কারভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি থেকে তারা একতরফাভাবে সরে আসবে না। এর পেছনে রয়েছে অতীতের অভিজ্ঞতা। ২০১৫ সালে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির সঙ্গে তেহরান যে পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছেছিল, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তা থেকে সরে দাঁড়ায় এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। এরপর থেকেই তেহরান পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদার করে।

সব মিলিয়ে, রোমে অনুষ্ঠিত এই সর্বশেষ আলোচনাকেও ঘিরে রয়েছে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা। দুই দেশের অবস্থান যতক্ষণ না কাছাকাছি আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আবারও রোমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু আলোচনা, সমঝোতায় অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় ১০:২২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

 

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে বহুদিনের বিরোধ মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা ফের আলোচনায় বসেছেন। গতকাল শুক্রবার ইতালির রোমে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা মধ্যস্থতা করছে ওমান। খবর সিএনএন ও এবিসি নিউজের।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এটি ছিল পঞ্চম দফা আলোচনা।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাব

তবে, আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বিরোধপূর্ণ শর্ত’ থাকায় কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তারা এমন একটি চুক্তি চান যেখানে ইরান শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। তার ভাষায়, “এটা সহজ হবে না।”

দুই পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী হলেও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তাদের ‘রেড লাইন’ স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন না করুক, যা গোটা অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান চায় তাদের তেলনির্ভর অর্থনীতির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক।

তেহরান জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে কিছু সীমাবদ্ধতা মানতে প্রস্তুত, তবে ওয়াশিংটনকে পরিষ্কারভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি থেকে তারা একতরফাভাবে সরে আসবে না। এর পেছনে রয়েছে অতীতের অভিজ্ঞতা। ২০১৫ সালে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির সঙ্গে তেহরান যে পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছেছিল, ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তা থেকে সরে দাঁড়ায় এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। এরপর থেকেই তেহরান পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদার করে।

সব মিলিয়ে, রোমে অনুষ্ঠিত এই সর্বশেষ আলোচনাকেও ঘিরে রয়েছে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা। দুই দেশের অবস্থান যতক্ষণ না কাছাকাছি আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।