ঢাকা ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

আইসিসি’র জেলে থেকেও নির্বাচনী জয়, আবারও ফিলিপাইনের মেয়র রদ্রিগো দুতের্তে

ফিলিপাইন, নির্বাচন, আইসিসি, মেয়র
  • আপডেট সময় ১২:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • / 213

ছবি সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) হেফাজতে থাকা ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে তার নিজ শহর দাভাওয়ের মেয়র পদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। সোমবার (১৩ মে) ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনার ৮০ শতাংশ শেষে দেখা যায়, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় তিনি প্রায় আট গুণ বেশি ভোট পেয়েছেন।

৮০ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এক সময় মাদকের বিরুদ্ধে তার কড়া অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হলেও দাভাও শহরে এখনো অপরাধ দমনকারী নেতা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। ভক্তদের কাছে তিনি পরিচিত ‘দুতের্তে হ্যারি’ ও ‘দ্য পানিশার’ নামে।

দুতের্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে। মার্চ মাসে আইসিসির অনুরোধে ফিলিপাইন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে, যা তার সমর্থকদের মতে ‘বিদেশি আদালতের নির্দেশে অপহরণ’। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দুতের্তে হতে পারেন প্রথম কোনো এশীয় সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি আইসিসিতে বিচারপ্রাপ্ত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন  পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন প্রবাসীরা, সংখ্যা ছাড়াল ৪ লাখ

উল্লেখযোগ্যভাবে, ফিলিপাইন ২০১৯ সালে আইসিসির রোম সংবিধি থেকে সরে গেলেও আদালতের দাবি, দুতের্তের মেয়র থাকাকালীন সময়ে সংঘটিত অপরাধগুলো তদন্তের অধিকার তাদের রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দাভাও শহরে ‘ডেথ স্কোয়াড’ পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছেন, যদিও দুতের্তে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাগুলো বরং তার এবং তার পরিবারের প্রতি জনগণের সমর্থন আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এবারের নির্বাচনে তার দুই ছেলেও বিজয়ের পথে রয়েছেন। একজন পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন কংগ্রেস সদস্য হিসেবে, অন্যজন ভাইস-মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এবং পিতার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে দুতের্তে পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বর্তমান ভাইস-প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের ঘিরে। তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে তার রাজনৈতিক জীবন চিরতরে শেষ হয়ে যেতে পারে।

এই অবস্থায় দাভাওতে দুতের্তের জয়কে সমর্থকরা রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও জনপ্রিয়তার পুনরুত্থান হিসেবে দেখছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আইসিসি’র জেলে থেকেও নির্বাচনী জয়, আবারও ফিলিপাইনের মেয়র রদ্রিগো দুতের্তে

আপডেট সময় ১২:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) হেফাজতে থাকা ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে তার নিজ শহর দাভাওয়ের মেয়র পদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। সোমবার (১৩ মে) ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনার ৮০ শতাংশ শেষে দেখা যায়, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় তিনি প্রায় আট গুণ বেশি ভোট পেয়েছেন।

৮০ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এক সময় মাদকের বিরুদ্ধে তার কড়া অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হলেও দাভাও শহরে এখনো অপরাধ দমনকারী নেতা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। ভক্তদের কাছে তিনি পরিচিত ‘দুতের্তে হ্যারি’ ও ‘দ্য পানিশার’ নামে।

দুতের্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে। মার্চ মাসে আইসিসির অনুরোধে ফিলিপাইন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে, যা তার সমর্থকদের মতে ‘বিদেশি আদালতের নির্দেশে অপহরণ’। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দুতের্তে হতে পারেন প্রথম কোনো এশীয় সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি আইসিসিতে বিচারপ্রাপ্ত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন  যাচাই শেষে ৭২৩ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, বৈধ থাকলেন ১,৮৪২ জন

উল্লেখযোগ্যভাবে, ফিলিপাইন ২০১৯ সালে আইসিসির রোম সংবিধি থেকে সরে গেলেও আদালতের দাবি, দুতের্তের মেয়র থাকাকালীন সময়ে সংঘটিত অপরাধগুলো তদন্তের অধিকার তাদের রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দাভাও শহরে ‘ডেথ স্কোয়াড’ পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছেন, যদিও দুতের্তে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাগুলো বরং তার এবং তার পরিবারের প্রতি জনগণের সমর্থন আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এবারের নির্বাচনে তার দুই ছেলেও বিজয়ের পথে রয়েছেন। একজন পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন কংগ্রেস সদস্য হিসেবে, অন্যজন ভাইস-মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এবং পিতার অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে দুতের্তে পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বর্তমান ভাইস-প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের ঘিরে। তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে তার রাজনৈতিক জীবন চিরতরে শেষ হয়ে যেতে পারে।

এই অবস্থায় দাভাওতে দুতের্তের জয়কে সমর্থকরা রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও জনপ্রিয়তার পুনরুত্থান হিসেবে দেখছেন।