ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে সেটি আমেরিকার বিষয় নয়: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫
  • / 298

ছবি: সংগৃহীত

 

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত প্রশমিত হওয়া উচিত, তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নেই। যুদ্ধ শুরু হলে সেটি আমেরিকার বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফক্স নিউজের সঞ্চালক মার্থা ম্যাকক্যালামের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, “আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতির অবসান ঘটুক। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমরা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারি না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চেষ্টা করছি উত্তেজনা কমিয়ে আনতে, কিন্তু এমন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চাই না যেটা আমাদের সরাসরি বিষয় নয়।”

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানি চুক্তিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল: নতুন আলোচনা শুরু কলকাতায়

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন ও গাজায় চলমান সংকট কূটনৈতিকভাবে সামাল দিতে ব্যস্ত থাকার কারণে ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি চাপ প্রয়োগে দ্বিধায় রয়েছে।

চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব কিছুটা কমে গেলেও দেশটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো মিত্র।

গত বৃহস্পতিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পাল্টা জবাব এখন প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে। দুইদিনের সংঘর্ষে প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের একটি সেনা ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হয়। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়।

ভ্যান্স আরও বলেন, “আমরা আশা করছি এটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ কিংবা পারমাণবিক সংঘাতে পরিণত হবে না।”

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পৃথকভাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি দুই দেশকে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “পাল্টা-পাল্টি পদক্ষেপ বন্ধ হওয়া উচিত। এখনই সময় থামার।” স্টেট ডিপার্টমেন্টও উভয় দেশকে দায়িত্বশীল সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্র: আলআরাবিয়া

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে সেটি আমেরিকার বিষয় নয়: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

আপডেট সময় ১০:৪৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫

 

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত প্রশমিত হওয়া উচিত, তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নেই। যুদ্ধ শুরু হলে সেটি আমেরিকার বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফক্স নিউজের সঞ্চালক মার্থা ম্যাকক্যালামের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, “আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতির অবসান ঘটুক। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমরা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারি না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চেষ্টা করছি উত্তেজনা কমিয়ে আনতে, কিন্তু এমন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চাই না যেটা আমাদের সরাসরি বিষয় নয়।”

আরও পড়ুন  ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্তের পথে

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন ও গাজায় চলমান সংকট কূটনৈতিকভাবে সামাল দিতে ব্যস্ত থাকার কারণে ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি চাপ প্রয়োগে দ্বিধায় রয়েছে।

চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব কিছুটা কমে গেলেও দেশটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো মিত্র।

গত বৃহস্পতিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পাল্টা জবাব এখন প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে। দুইদিনের সংঘর্ষে প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের একটি সেনা ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হয়। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়।

ভ্যান্স আরও বলেন, “আমরা আশা করছি এটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ কিংবা পারমাণবিক সংঘাতে পরিণত হবে না।”

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পৃথকভাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি দুই দেশকে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “পাল্টা-পাল্টি পদক্ষেপ বন্ধ হওয়া উচিত। এখনই সময় থামার।” স্টেট ডিপার্টমেন্টও উভয় দেশকে দায়িত্বশীল সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

সূত্র: আলআরাবিয়া