ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

গ্যাস নিয়ে ভালো সংবাদ দিলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / 17

ছবি: সংগৃহীত

 

দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকট আগামী সপ্তাহ থেকে কিছুটা কমবে এবং পরের সপ্তাহে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে সরকার। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট সংকট নিরসনে দ্রুত কাজ চলছে।

সোমবার, ২৭ জুলাই সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন  রাজশাহীতে দেশের প্রথম ঘড়িয়াল প্রজনন কেন্দ্রের যাত্রা শুরু

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ থেকে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকে ওই টার্মিনাল দৈনিক ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। তার আশা, আগামী সপ্তাহে প্রায় ৫০ শতাংশ সরবরাহ চালু হলে পরের সপ্তাহে তা শতভাগে পৌঁছাবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।

তিনি বলেন, আমদানিকৃত এলএনজি দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে রি-গ্যাসিফাই করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গত সপ্তাহে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। পরে তা সম্ভব না হওয়ায় আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কারিগরি বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে। পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল, জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তা এবং এক্সিলারেট এনার্জির বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।

তিনি আরও জানান, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস আনা হচ্ছে। সেগুলো এয়ার ফ্রেইটে পৌঁছানোর পর দ্রুত কাস্টমস ছাড়পত্র দিয়ে মেরামতকাজে ব্যবহার করা হবে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এফএসআরইউতে একটি বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে ওই সময় কাছাকাছি থাকা একটি এলএনজি কার্গো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি টার্মিনাল অচল থাকায় এলএনজি কার্গোর সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সামিট পরিচালিত অপর এফএসআরইউ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।

ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদে ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস ব্যবহার এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যমেয়াদে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম এফএসআরইউ স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে রি-গ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা সীমিত থাকায় প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। নতুন টার্মিনাল স্থাপন হলে সরবরাহ সক্ষমতা আরও বাড়বে।

ভোলার গ্যাস প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত গ্যাস থাকলে তা মূল ভূখণ্ডে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে সবকিছু অনুকূলে থাকলে প্রায় এক বছরের মধ্যে সেই গ্যাস শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

তিনি আরও জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে অফশোর বিডিং রাউন্ড চালু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো এতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আগামী নভেম্বরে বিড জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই দেশব্যাপী সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে। সোমবার, ২৭ জুলাই রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, চলমান গ্যাস সংকট বিবেচনায় কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে দাবি পূরণে সরকারকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে ৩০ জুলাই দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্যাস নিয়ে ভালো সংবাদ দিলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

আপডেট সময় ০৪:৩৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

 

দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকট আগামী সপ্তাহ থেকে কিছুটা কমবে এবং পরের সপ্তাহে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে সরকার। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট সংকট নিরসনে দ্রুত কাজ চলছে।

সোমবার, ২৭ জুলাই সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন  সিরিজ বাঁচাতে আজ মাঠে বাংলাদেশ, থাকতে পারে পরিবর্তন

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ থেকে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকে ওই টার্মিনাল দৈনিক ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। তার আশা, আগামী সপ্তাহে প্রায় ৫০ শতাংশ সরবরাহ চালু হলে পরের সপ্তাহে তা শতভাগে পৌঁছাবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়।

তিনি বলেন, আমদানিকৃত এলএনজি দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে রি-গ্যাসিফাই করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গত সপ্তাহে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। পরে তা সম্ভব না হওয়ায় আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কারিগরি বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে। পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল, জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তা এবং এক্সিলারেট এনার্জির বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।

তিনি আরও জানান, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস আনা হচ্ছে। সেগুলো এয়ার ফ্রেইটে পৌঁছানোর পর দ্রুত কাস্টমস ছাড়পত্র দিয়ে মেরামতকাজে ব্যবহার করা হবে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এফএসআরইউতে একটি বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তবে ওই সময় কাছাকাছি থাকা একটি এলএনজি কার্গো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি টার্মিনাল অচল থাকায় এলএনজি কার্গোর সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সামিট পরিচালিত অপর এফএসআরইউ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।

ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদে ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস ব্যবহার এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যমেয়াদে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম এফএসআরইউ স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে রি-গ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা সীমিত থাকায় প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। নতুন টার্মিনাল স্থাপন হলে সরবরাহ সক্ষমতা আরও বাড়বে।

ভোলার গ্যাস প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত গ্যাস থাকলে তা মূল ভূখণ্ডে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে সবকিছু অনুকূলে থাকলে প্রায় এক বছরের মধ্যে সেই গ্যাস শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

তিনি আরও জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে অফশোর বিডিং রাউন্ড চালু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো এতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আগামী নভেম্বরে বিড জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই দেশব্যাপী সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে। সোমবার, ২৭ জুলাই রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, চলমান গ্যাস সংকট বিবেচনায় কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে দাবি পূরণে সরকারকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে ৩০ জুলাই দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকবে।